প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আল জাজিরাকে রোহিঙ্গা শরণার্থী খুশী
‘তারা আমার সার্টিফিকেট কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু জ্ঞান নিতে পারবে না’

লিহান লিমা: রোহিঙ্গা হয়ে কক্সবাজারের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করায় এই মাসের শুরুতে বাতিল হয় কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে থাকা রাহিমা আক্তার খুশীর (২০) ছাত্রত্ব। বাংলাদেশের আইনে আশ্রয়শিবিরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যতিত কোন রোহিঙ্গার স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি নেই। আল জাজিরা

গত বছরের অক্টোবরে এসোসিয়েট প্রেসকে দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাতকারে তিনি একজন রোহিঙ্গা হিসেবে নিজের শিক্ষার ইচ্ছে নিয়ে কথা বলেন, যাতে কি না নিজের নির্যাতিত সম্প্রদায়কে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন। প্রায় এক বছর পর ওই ভিডিও প্রকাশের পর এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। কারন বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে ততদিনে খুশী আইন নিয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ছিলেন। পড়ার ফাঁকে তিনি সাহায্য সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিওর অনুবাদক ও দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন।

ফোনে আল জাজিরাকে খুশী বলেন, ‘যখন ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে আমি কলেজে ছিলাম। হুট করেই সবাই আমাকে প্রশ্ন করা শুরু করে, তুমি রোহিঙ্গা? কেউ কেউ নেতিবাচক প্রচারণা আরম্ভ করা শুরু করেন, বলেন, আমাকে রাখাইনে ফেরত পাঠানো উচিত। খুশী আরো বলেন, ‘শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য আমি নিজের পরিচয় লুকিয়েছি। এর জন্য আমার অপরাধবোধও হয়েছে। কিন্ত আমার হাতে বিকল্প কোন পথ ছিলো না। শিক্ষা গ্রহণ করা কি অপরাধ?

খুশী বলেন, ‘শিক্ষাতো একটি মৌলিক মানবাধিকার। আমি এটিই জানি। রোহিঙ্গা হওয়াতো আমার অপরাধ নয়।’ খুশী নিজের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে কক্সবাজারে এক পরিচিতের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। ১২ বছর বয়সে খুশীর বাবা তাকে স্কুল থেকে নিয়ে বিয়ে দিতে চায়। খুশী জানান, তিনি তখন তার বাবাকে অনুরোধ করে স্কুলে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে জন্ম নেয়া ও বড় হওয়া খুশীর বাবা-মা ১৯৯২ সালে মিয়ানমারে এক ধর-পাকড়ের শিকার হয়ে পালিয়ে আসেন। খুশী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত ৩৩ হাজার শরণার্থীর মধ্যে একজন।

আল জাজিরা জানায়, খুশী নিজেও জানেন অন্য রোহিঙ্গাদের তুলনায় তার জীবন কতটা ভিন্ন। খুশী বলেন, ‘আমার সব বন্ধুরা বিবাহিত, কেউ দুই বা ততোধিক সন্তানের মা। কেউ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার। শিবিরের মধ্যে একমাত্র আমিই এই সব করেছি।’

এই সময় শিক্ষা গ্রহণের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার কথা ব্যক্ত করে খুশী বলেন, ‘তারা আমার সার্টিফিকেট কেড়ে নিয়েছে কিন্তু আমার অর্জিত জ্ঞান নিতে পারে নি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ