প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোন ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না : রজনীকান্ত

লিহান লিমা: গত শনিবার হিন্দি দিবসে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হিন্দিকে জাতীয় ভাষা করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্ত বলেছেন, কোন ভাষা জোর করে চাপানো যাবে না। উত্তর ও দক্ষিণ ভারত এটি এখনোই মানবে না। এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দুং

বুধবার চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে এই থালাইভা সুপারস্টার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আরো বলেন, ‘একটি সাধারণ ভাষা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য ভালো তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, ভারতে কোনও একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে সাধারণ ভাষা হিসাবে গণ্য করা সম্ভব নয়।’ প্রসঙ্গত ভারতে জাতীয় পর্যায়ে দুইটি সরকারী ভাষা ও রাষ্ট্রীয় স্তরে ২২টি তপশীলি ভাষার স্বীকৃতি থাকলেও দেশটিতে কোনও জাতীয় ভাষা নেই।

এর আগে অমিত শাহ ভাষার মাধ্যমেই ভারতকে একসূত্রে বাঁধার আহ্বান জানিয়ে এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ভারত বহুভাষাভাষীর মানুষের দেশ এবং প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু দেশের সর্বাধিক কথিত ভাষা হিসেবে হিন্দিই দেশের মানুষের মধ্যে একতা তৈরির ক্ষমতা রাখে।’ তাই হিন্দিকে ভারতের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণার প্রস্তাব দেন তিনি।

এরপরই ভারতের রাজ্যে রাজ্যে এটি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। অহিন্দি-ভাষী রাজ্যগুলো এটিকে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের চাল হিসেবে দেখে। বিজেপি শাসিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ‘হিন্দিকে তাঁরা কখনওই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবেন না।’ ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও এর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

অভিনেতা-রাজনীতিবিদ মাক্কাল নিধি মালম দলের কমল হাসান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ভাষা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভারতের প্রজাতন্ত্র গঠনের সময় বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন কোনও শাহ, সুলতান বা সম্রাট সেটি ভাঙতে পারবেন না। ভাষার জন্য আমাদের যুদ্ধ অনেক বড় হবে। ভারত বা তামিলনাডুর এমন যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। কিন্তু মাতৃভাষা সব সময়ই তামিল থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অধিকাংশই আনন্দের সঙ্গে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গায় যা বাংলায় লেখা। কারণ, যে কবি এটি লিখেছেন তিনি সমন্ত ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করেই লিখেছেন। তাই সেটি জাতীয় সঙ্গীত।’

পশ্চিমবঙ্গের কবি সুবোধ সরকার, কবি-গদ্যকার বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবৃত্তিকার ঊর্মিমালা বসু ও জগন্নাথ বসু, চিত্রপরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যসহ ৫০ জন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব সামাজিক মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে তাঁদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান জানান। ওই পোস্টে কৌশলে একটি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করার পাশাপাশি জানানো হয়, ‘অদূর ভবিষ্যতে একদিন এমনও আসতে পারে, যেদিন আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষাকে বিপন্ন হতে হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ