প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হওয়া দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ: দুদক চেয়ারম্যান

জান্নাতুল পান্না: দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যে সব দুর্নীতি সংঘটিত হয় তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধীরা এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইম এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি ড.সুরুচি পান্ট এর নের্তৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন।

দদুক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, টঘঙউঈ যেসব প্রশিক্ষণ এবং সেমিনার-সিম্পেজিয়ামের আয়োজন করছে তাতে দুদক কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং এতে তারা উপকৃত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমে সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না, যা আমাদের বড় শক্তি। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে যে, দুদক তার কাজ-কর্মের মাধ্যমে কাঙ্খিত মাত্রার জন আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই নাগরিকগণের আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন , বিশেষজ্ঞদের মতে আগামীতে যে ১১টি দেশ (ঘ-১১)বিশ^ অর্থনীতির নেতৃত্ব দিবে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিশ^ অর্থনীতির নেতৃত্ব দিতে হলে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করার কোনো বিকল্পনেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় মাধ্যমেই জনতাত্তি¡ক লভ্যাংশ পাওয়া যেতে পারে। সক্ষম মানবসম্পদ সৃষ্টি করা না গেলে জনতাত্তি¡ক লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ সীমিত। তিনি বলেন, ঠিক এ কারণেই কমিশন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি দমন, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের লেনদেন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ের জন্য কমিশন তাদের ডাটাবেজে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিতভাবে এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিংসহ সকল লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থ পাচার বন্ধ করতে হলে এসব সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। যারা জাল-জালিয়াতি করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করছেন তারাই ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমের মানিলন্ডারিং করছেন বলে আমাদের ধারণা। তাই সকলের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।

তিনি বলেন কমিশন উত্তম চর্চার বিকাশ, তথ্য বিনিময়, দুর্নীতি দমনে কৌশল নির্ধারণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ভুটান, রাশিয়া ও ভারতের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাসমূহের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। আরো বেশ কয়েকটি দেশের এ জাতীয় সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরে বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করছে । এরই মধ্যে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নৈতিকতাবিহীন উন্নয়ন কখনও কখনও অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। তাই কমিশন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সততা ও নৈতিকমূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে দেশের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করেছে । এসব সততা সংঘের সদস্যদের মাধ্যমে কমিশনের অর্থায়নে দুর্নীতিবিরোধী এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সততা ও নৈতিকতা নিবিড় চর্চার বিষয়। তাই নৈতিক চর্চার প্রাত্যহিক অনুশীলনের উদ্দেশ্যে সততা সংঘ রয়েছে এমন প্রায় ৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টোরে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, চিপস্, চকলেটসহ বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব পণ্য কিনে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করছে । এসব সততা স্টোরে অনৈতিকতার কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যা কমিশনকে আশান্বিত করছে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন UNODCÕ এর বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রোগ্রাম অফিসার (টেররিজম প্রিভেনশন) Marina Yakunina, দুদকের প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ