প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইভিএমের আধুনিকীকরণ হয়েছে, বললেন লে:কর্ণেল কামাল হোসেন

শাহীন খন্দকার : সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে নতুন ইভিএম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তৈরিকৃত মেশিনের সাহায্যে ২০১৭ সালে প্রথম রংপুরের সিটি নির্বাচনে ব্যবহার শুরু হয়েছে। রংপুরের নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ১৯৩টি ইভিএম কেন্দ্রের সংখ্যাছিলো ১ ব্যবহৃত ইভিএম মেশিনের সংখ্যা ছিলো ৬ কেন্দ্রসমূহের মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৫৯, ইভিমের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ২শত ২৭ জন। আর এখন বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ’র) সহযোগিতায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভোটার শনাক্ত করণ ইভিএম মেশিন সংযোগ করা হয়েছে নতুন কনফিগারেশনের মাধ্যমে।

ইভিএম প্রজেক্ট প্রকল্প পরিচালক কর্ণেল কামাল হোসেন বলেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ত্রুটিমুক্ত ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রচলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ২০১০ সালে চট্রগ্রাম সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনে। কিন্ত সেই সময়ে বিএনপি’র চেয়ারপার্সনসহ নীতির্ধারকরা প্রচণ্ড বিরোধিতা করেন। সময়ের ব্যবধানে ইভিএম ভোটিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ ভোট গ্রহণের শেষে প্রতিটি কক্ষে ভোট গণনার সময় লাগে ১ মিনিট। ইতিমধ্যে ১৫টি উপজেলায় ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে ফুল ফেইজে। সামনে রংপুর ৩ উপনির্বাচনেও ফুলফেইজে ব্যাবহার হবে।

প্রকল্প পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে-ই প্রথম অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ইভিএম মেশিন তৈরি করছে। এই মেশিন কন্ট্রোল ইউনিট সংকেত দিবে, প্রকৃত ভোটার শনাক্ত করবে ব্যালট ইউনিট মনিটর করবে।

এক যুগ আগে বাংলাদেশে প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদের নির্বাচনে এ পদ্ধতি প্রথম ব্যবহার করা হয়। ছোট নির্বাচনে সফলতার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে এ প্রকল্প জমা দেন উদ্ভাবক, বুয়েটের আইআইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এস এম লুৎফল কবির এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পাইল্যাব বাংলাদেশ। তখন ছবি সংবলিত ভোটার তালিকার কাজ চলার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে সফলতা আসে। সেখানে মোট ২৫ হাজার ২৩৮ জন ভোটার ইভিএমে ভোট প্রদান করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমকে সামনে রেখে ১৩০টি ইভিএম তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ১০০টি ইভিএম চট্টগ্রামে আনা হয়। তবে ১৪ ভোট কেন্দ্র্রের ৭৯টি বুথে ৭৯টি ও প্রতি কেন্দ্রের জন্য একটি অতিরিক্ত হিসাবে মোট ৯৩টি ইভিএম স্থাপন করা হয়।

নির্বাচনে দ্রুত ভোট গ্রহণ ও দ্রুত ফলাফল ঘোষণায় ইভিএম পদ্ধতির সফল কার্যকারিতার প্রমাণ মেলে। এ নির্বাচনে ভোট গণনার ক্ষেত্রে অন্য ওয়ার্ডগুলোতে যেখানে তিন থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে, এ ক্ষেত্রে জামাল খান ওয়ার্ডে এক ঘণ্টার মধ্যেই ফল ঘোষণা সম্ভব হয়েছে। তবে এর পরে ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবহার হয়। সেই সময়ে মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়।

তিনি আরো বলেন, ইভিএমের একটি ব্যালট ইউনিটে ১২ জন প্রার্থীর জন্য ব্যবস্থা থাকে। চাইলে এর সঙ্গে আলাদা আরো পাঁচটি ব্যালট ইউনিট যোগ করে মোট ৬০ জন প্রার্থীর ভোট নেয়া সম্ভব। কোথাও ১২ জনের কম প্রার্থী থাকলে ফাঁকা প্রতীকের সুইচগুলো থাকবে অকার্যকর। ব্যালট ইউনিট অথবা কন্ট্রোল ইউনিট বিকল হলে কি করা যাবে এ কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে একটি অতিরিক্ত ইভিএম দেয়া হবে। প্রদত্ত ভোটের হিসাব কন্ট্রোল ইউনিটে সংরক্ষিত থাকে, তাই কোনো ব্যালট ইউনিট বিকল হলে ভালো ইউনিট দিয়ে সেটিকে প্রতিস্থাপন করলেই চলবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ