প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মামলা-জরিমানার পরও রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না, বাড়ছে দুর্ঘটনা

মাসুদ আলম : রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ও যত্রতত্র রাস্তা পারাপার। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত বছরের জুলাই মাসে বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসে ডিএমপি। এরপর থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ, ট্রাফিক পক্ষ, মাস ব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রমসহ সচেতনামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া লিফলেট বিতরণ, স্টিকার লাগানো ও কাউন্সিলিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত বাস স্টপেজ থাকলেও অধিকাংশ বাস থামছেনা। কার আগে কে যাত্রী তুলবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত চালক ও হেলপার। অধিকাংশ বাসের দরজা খোলা, যত্রতত্র যাত্রী তোলা হচ্ছে, আবার রাস্তার মধ্যেই বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ তৎপর থাকলেই কেবল চালকদের আইন মানার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারেও পথচারিদের অনীহা। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলমান রাস্তাতে হাত উচিঁয়ে পারাপার হচ্ছেন। ট্রাফিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর অভিযানে ৬ হাজার ৭৫৮টি মামলা এবং ২৯ লাখ ২৮ লাখ ৯২৫ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও ৩৬টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৯৪৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ডিসি প্রবীর কুমার রায় বলেন, প্রতিদিনই পথচারিদের বনানীর কাকলী পুলিশ বক্সে এক ঘণ্টা কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। সবাই সচেতন হলেই শৃঙ্খলা ফিরবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পথচারিদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তা পারাপারে পথচারিদের ধৈর্যশীল হতে হবে। চালকদেরও ধৈর্যশীল ও সচেতন হতে হবে।

চালকের বেপরোয়ার কারণে ২৭ আগস্ট দুপুরে বাংলামোটরে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস চাপায় পা হারান বিআইডব্লিউটিসি সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রায়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ৫ সেপ্টেম্বর তুরাগ এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট হাসপাতালের সামনে ভিক্টর পরিবহনের চাপায় মারা যান সংগীত পরিচালক পারভেজ রব। একই দিন মহাখালীর আমতলীতে বাস চাপায় মারা যান ফারহা নাজ নামে এক কর্মজীবি নারী। এর তিনদিন পর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর এলাকায় ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন পারভেজের ছেলে ইয়ামিন আলভি এবং তার বন্ধু মেহেদী হাসান মারা যান। তারপরও সচেতনা ফিরছে না চালকদের মধ্যে।

ওলিউল্লাহ সুমন নামে এক পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, চালকদের একার পক্ষে আইন মানলে চলবেনা। সবাই সচেতন হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের বেতনের আওতায় আনতে হবে।

ট্রাফিক পুলিশের ডেমরা জোনের সিনিয়র এসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে লিফলেট বিতরণ, স্টিকার লাগানো ও শিক্ষনীয় ব্যানারসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ