প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাচারের শিকার দুই রোহিঙ্গার করুণ কাহিনী

নিউজ ডেস্ক : মাত্র এক বছর আগেও ঘুম থেকে উঠলে শোনা যেত সাগরপথে মানবপাচারের সংবাদ। শোনা যেত সাগরে মৃত্যুর খবর। কানে বাজতো স্বজনদের আর্তনাদ ও আহাজারি। সময়ের ব্যবধানে পুরোপুরি না থামলেও কিছুটা স্তিমিত হয়েছে ভয়ানক সে মানবপাচার। উখিয়া সোনারপাড়ার রেজিয়া আকতার ওরফে রেবি ম্যাডাম, রুস্তম আলীদের কথা কার না জানা? রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী মিলেমিশে চলছিল অপ্রতিরোধ্য মানবপাচার। টেকনাফের নাফ নদী ও উখিয়ার রেজুখালকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল অঘোষিত মানবপাচারের ঘাট। মানবপাচার আইনের সংশোধন ও প্রশাসনের কঠোরতায় সাগরপথে এখন আর মৃত্যুর কাহিনী শোনা যায় না। তবে, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠেন ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার মানুষগুলো। নয়া দিগস্ত

মিয়ানমারের মংডু শহরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক। প্রায় ২০ বছর আগে বাড়িতে দুই মেয়ে রেখে তিনি মারা যান। ছোট মেয়ে আজিদা এখন ২০ বছরে পা দিয়েছে। আজিদার বয়স যখন মাত্র ৬ মাস তখন বাবা আব্দুল খালেক ওপারে চলে যান। মা তৈয়বা বেগম ও বড় বোন রোজিনা আক্তারের সাথে তার বসবাস। নানী গুলবাহার বেগম (৫০) তাদের সবাইকে দেখাশোনা করতেন।২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের মগ বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশে চলে আসেন। বসবাস করছেন উখিয়ার কুতুপালং ১৭ নং ক্যাম্পের বি-ব্লকে। বিয়ে হয়েছে বড় বোন রোজিনা আক্তারের।

আজিদার প্রতিবেশী সলিমুল্লাহ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়াতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতেন। সেখানে পদুয়ার ছেলে আরাফাতের সাথে পরিচয় হয় রোহিঙ্গা সলিমুল্লাহর। আরাফাত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসতেন সলিমুল্লাহর সাথে দেখা করতে। সেখানে আজিদার সাথে পরিচয় হয় আরাফাতের। দেখতে বেশ সুন্দর হওয়ায় আজিদার জন্য পাগল হয়ে ওঠেন আরাফাত। এভাবে দুইজনের মধ্যে মন দেয়ানেয়া চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। একপর্যায়ে প্রেমে পড়ে যান তারা। তাদের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও হয়। ইত্যবসরে প্রেমের টানে ক্যাম্প থেকে আরাফাতের সাথে পালিয়ে যান আজিদা। পরিবারের অজান্তেই দুইজনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই বসবাস করতে থাকেন আজিদা ও আরাফাত।

এভাবে এক মাস কেটে যাওয়ার পর আরাফাতের আচার-ব্যবহার, চালচলন সন্দেহ হতে থাকে আজিদার। তিনি টের পান তাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। খবর দেন মাকে। সাইট ব্লক-৮১ এর মাঝি সৈয়দ হোসেন জাতীয় মানব কল্যাণ মিশনকে (জেএমকেএম) বিষয়টি অবহিত করেন। জেএমকেএম সাইট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সিআইসিকে অবহিত করে। যোগাযোগ হয় পদুয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শফির সাথে। অবশেষে লোহাগাড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে ভিকটিম আজিদাকে ক্যাম্প-১৭তে ফিরিয়ে আনা হয়।

শুধু আজিদার মা নন, খালা ও নানীও ছিলেন বিধবা। তাই আশা ছিল, আরাফাতের সাথে গেলে হয়তো পরিবারের অভাব ঘুচবে। বিধবা মাকে কিছুটা হলেও শান্তি দেয়া যাবে। কিন্তু ঘটে যায় এ বিপত্তি। অবশেষে স্থানীয় প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে মুক্তির পথে ফিরে আসেন আজিদা।

সম্পাদনা : মহসীন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ