প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোবট শ্রমিক পোশাক খাতের শ্রমিকদের কর্মহীন করবে বলে আশংকা

ওয়ালি উল্লাহ : দেশের পোশাক খাতে  বেশকিছু কারখানায় অটোমেশন চালু থাকায় তা শ্রমিকদের বেকারত্বে প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় রোবট শ্রমিক পোশাক শিল্পে যুক্ত হলে উৎপাদন বাড়লেও  লাখ লাখ শ্রমিক  চাকরিচ্যুত হতে পারেন। এমনই মন্তব্য করেছেন এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা।  মানবজমিন

বর্তমানে দেশের কারখানা গুলোতে এক ছাদের নিচে লাইন ধরে বসানো সারি সারি সেলাই মেশিন দেখা যায়। এসব মেশিনে কাজ করছেন শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিক। কিন্তু যেভাবে প্রযুক্তির পরিবর্তন আসছে। ১০বছর পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানা গুলোতে এমন দৃশ্য নাও থাকতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের দেশে এখনো রোবটিক প্রযুক্তি চালু হয়নি। তবে বর্তমানে বেশকিছু নামিদামি কারখানায় অটোমেশন চালু আছে। এই অটোমেশন চালু হওয়াতেই একটা লেভেলে কিছু শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। রোবটিক প্রযুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি চালু হলে আমাদের হয়তো উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু লাখ লাখ শ্রমিক জবলেস হয়ে পড়বে। এর ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই যেসব দেশে রোবট শ্রমিক চালু হয়েছে, তাতে দেখা গেছে একজন শ্রমিক একাই ১০টি মেশিন চালাচ্ছেন। যেখানে একই কাজ আগে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক করতেন। তবে এই প্রযুক্তি বর্তমানে খুবই ব্যয়বহুল।

এদিকে নিউ ইয়র্কের প্রযুক্তি কোম্পানি শিমি টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সারাহ ক্রেসলি বলেন, ১০ বছর পরের পোশাক কারখানায় খুব অল্প শ্রমিকই কাজ করবে। তিনি জানান, বর্তমানে পোশাক শিল্পে কাজ করে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। এদের ৬০ হতে ৮৮ শতাংশ তাদের কাজ হারাবে অটোমেশনের কারণে। তার মতে, বাংলাদেশের সামনে বিপদ অনেক রকমের। প্রথমটা হচ্ছে এই অটোমেশন, যেটা ইতিমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে বদলে যাওয়া ফ্যাশন ট্রেন্ড, যেটা বিরাট প্রভাব ফেলছে পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর উপর।

বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, অটোমেশন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একটা মাঝারি আকারের কারখানার কাটিং সেকশনে দেড়-দুইশ’ লোক লাগতো। সেখানে এখন অটোমেটিক কাটিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক লাগে ১০ থেকে ১২ জন। অর্থাৎ ১০ ভাগের এক ভাগ লোক লাগে। এ রকম অটোমেশন কিন্তু চলছেই। আগামী ১০ বছরে এই শিল্পে যে বিরাট পরিবর্তন ঘটবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।  ডব্লিউএস/এমআই

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ