প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেয়াদোত্তীর্ণ ৫ শতাধিক কমিটি, তৃণমূল আওয়ামী লীগে সম্মেলন হচ্ছে না দীর্ঘদিন

আহমেদ শাহেদ : দীর্ঘ তিন বছর নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় কাউন্সিল করতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূলে ৫ শতাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে যাবতীয় কার্যক্রম। দলটির ৭৮ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র একটিতে (মৌলভীবাজার) কাউন্সিল হয়েছে। বাকি ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। পাশাপাশি ৪ শতাধিক উপজেলায়ও একই চিত্র। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলে কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হাইকমান্ডের যে নির্দেশনা এসেছে, সেটি বাস্তবায়ন বেশ দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে। তবে আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব স্তরে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে আজ বুধবার বৈঠকে বসছে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী। সেখানে তৃণমূলে কাউন্সিলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।  যুগান্তর

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছরে না হওয়া তৃণমূল সম্মেলন আগামী তিন মাসে কীভাবে সম্ভব- তা নিয়ে রীতিমতো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, কোনো কোনো কমিটি ২৩ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ, ভাঙতে গেলেই প্রবীণদের আর্তনাদ- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমি রাজনীতি করেছি।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিটি ১০-১২ বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ। এগুলো ‘বগলদাবা’ করে রেখেছেন মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের অনেকে। সম্মেলনের কথা শুনলেই সংশ্লিষ্ট নেতারা গণভবন পর্যন্ত ছুটে যান। নানা অজুহাতে কাউন্সিল না করার পক্ষে মত দেন তারা। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে তৃণমূলে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যা বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। যেখানে ছিলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী। পাশাপাশি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তৃণমূলে গেলেও প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপে কাউন্সিল না করেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে তৃণমূলের সব স্তরে কাউন্সিল করা বেশ কঠিন বলে মনে করছেন অনেক নেতাই।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করছেন, এমন বাস্তবতায় তৃণমূলে হাত দিলে তা ‘হিতে-বিপরীত’ হতে পারে। দীর্ঘদিনের কোন্দল মাথাচাড়া দিতে পারে। যা জাতীয় কাউন্সিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকছে। তাই জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমূলে হাত না দেয়ার পক্ষে দলের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা। তবে যেসব জেলায় কোন্দল ততটা তীব্র নয়, সেখানে কাউন্সিল শেষ করার চিন্তা রয়েছে দায়িত্বশীলদের। আবার অনেক স্থানে সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণা না-ও করা হতে পারে।

শনিবার গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন বছরে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই মেয়াদে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন হল কেন? বাকিগুলো কেন হল না? আপনারা করেন কী? কে কী করেন সবার আমলনামা কিন্তু আমার কাছে রয়েছে। জেলায় জেলায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে আসেন, দলের কাজ তো কেউ করেন না। ব্যক্তি অপকর্মের দায় দল ও সরকার নেবে না। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি কেন্দ্রীয় নেতারা।এএস/কেএ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ