প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার গ্রেফতার আতঙ্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা!!!

ডেস্ক রিপোর্ট  : শনিবারের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলে থাকার সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী রাজপথে লড়াকু ছিলেন, ২০০৬ সালে যারা জামাত-বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা হরতাল-অবরোধে রাস্তায় থাকতেন, ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামাতের আন্দোলনের জবাব দেওয়ার জন্য যারা রাজপথে নেমেছিলেন, যারা হেফাজতের আন্দোলনের সময় দলীয় কার্যালয় পাহারা দিয়েছিলেন- তারাই এখন আতঙ্কে। আওয়ামী লীগের রাজপথের এরকম অনেক চেনামুখের অনেককেই এখন পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই এখন গা-ঢাকা দিয়েছে, কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছেন, অনেককে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আতঙ্কের সূত্রপাত হয়েছে গত শনিবারের আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর থেকে। এই কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুর্নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যারা সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া, যারা ক্যাডার রাজনীতি করে তাদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেওয়া, অস্ত্রবাজী-সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজীকে প্রশ্রয় না দেওয়া। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই সিদ্ধান্ত সারাদেশের মানুষকে উৎসাহিত করেছে, আশান্বিত করেছে, সব শ্রেণীপেশার মানুষই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করছে এর মাধ্যমে বিরাজনীতিকরণের একটি প্রক্রিয়া শুরু হলো। এর ফলে প্রশাসনের দাপট অনেক বেড়ে যাবে, দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে প্রশাসনের খবরদারি অনেক বেশি হয়ে গেছে। অনেক প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। এখন প্রশাসনের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই এসেছে আইনশৃঙ্খলা দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই সমস্ত প্রতিবেদনগুলোতে সব তথ্যই যেমন মিথ্যা নয়, আবার কিছু কিছু অতিরঞ্জিত তথ্যও রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। ফলে এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হয়, তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হয়ে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলছেন, এর ফলে সংগঠন দুর্বল হয়ে যাবে। কারণ ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের সময় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেককেই অনেকরকম পন্থা অবলম্বন করতে হয়েছে। একটা সময়ে এমন ছিল যে রাজপথে আন্দোলন না করলে তাকে নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না। রাজপথে আন্দোলন করার কারণে যাদেরকে আগে ক্যাডার বলা হয়েছে তাদের বিপুল সংখ্যক অনুগত বাহিনী তৈরি হতো, মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করা হতো। এখন তারা প্রশ্ন করছেন যে, দলের স্বার্থেই তো এই কাজগুলো করতে হয়েছে। তখন যদি আমাদেরকে বীর বলা হয়, তাহলে এখন কেন আমরা ক্যাডার হবো? এইসব বিতর্কের দোলাচলে আওয়ামী লীগের মধ্যস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে, একটা ঢালাও ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে হয়ত ক্যাডার হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় অনেক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, অনেককে দল থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য কতোটা মঙ্গলজনক হবে, সেটাও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

সামগ্রিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই বিরোধী দলের অবস্থানে চলে গেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গত ১০ বছর যে শান্তিতে, বীরদর্পে চলাফেরা করতেন- তা গত ৩-৪ দিনে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। বরং তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ, তাদের টিকিটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হলো যে, আওয়ামী লীগ কি তবে বিরোধী দলে? আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা দৃষ্টান্তমূলক, প্রশংসনীয় এবং সাহসী। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন হয়েছে, তার ধারায় সংগঠন করতে গেলে যে ক্যাডার বা রাজপথে লড়াকুদের যে প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করা হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এলে কি সংগঠন থাকবে? সংগঠন থাকুক না থাকুক, আওয়ামী লীগ সভাপতি একটি বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তা হলো দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। আর যাই হোক, তিনি সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেবেন না। আর এর ফলেই হঠাৎ আওয়ামী লীগের মধ্যস্তরের নেতাকর্মীদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে রাতারাতি যেন তারা বিরোধী দলে চলে গেছেন। বিরোধী দলে থাকলে যেমন গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে বা বিদেশে পালিয়ে থাকতে হতো- সেরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই নেতাকর্মীদের মধ্যে। ফলে এই এক ঘোষণাতেই বিরোধী দলের অবস্থায় চলে গেছে আওয়ামী লীগ।

বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ