প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদির পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চান না ট্রাম্প, বিন সালমানের টেলিফোনে কাজ হচ্ছে না

রাশিদ রিয়াজ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি যুদ্ধ পছন্দ করেন না। ফলে তিনি সৌদি আরবের পক্ষ হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত নন। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় যে হামলা হয়েছে তার পিছনে ইরান রয়েছে বলে আমার মনে হয় তবে তিনি কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চান না। অথচ হামলার পরদিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, সৌদি আরবে যে হামলা হয়েছে তার জবাব দেয়ার জন্য আমেরিকা প্রস্তুত রয়েছে। এর একদিন পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বললেন, যুদ্ধের জন্য তার ভেতরে কোন তাড়াহুড়ো নেই।

গত শনিবার সকালে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সমর্থিত সেনারা ১০টি ড্রোনের সাহায্যে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনার উপর ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলার কারণে সৌদি আরবের শতকরা ৫০ ভাগ তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্তত এক দশকের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম শতকরা ১৯ ভাগ বেড়ে গেছে।

এদিকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান সোমবার মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ বলেন, শুধু সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইরানের বিভিন্ন কার্যক্রমে গোটা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে রয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ’র খবরে বলা হয়, গত রোববার সৌদি আরবের দু’টি তেল স্থাপনায় হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন বিন সালমান। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা শনিবার সৌদির রাষ্ট্র মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরমাকোর দুটি স্থাপনায় শনিবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল স্থাপনায় হামলায় দায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী স্বীকার করলেও এর জন্য ইরানকে দায়ি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হুতিদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, হুতিরা ড্রোন হামলা করেনি। ইরান হুতিদের নাম করে অভিনব কৌশলে দাম্মামের অদূরে বাকিয়াক এলাকার সেই তেলকূপে হামলা চালিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে এধরনের বিবৃতি দিয়েছিলেন। তবে ইরান আমেরিকার ওই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথিরা ড্রোন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। হামলার জন্য আমেরিকা-ইরান কে দায়ী করলেও সৌদি আরব এ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো বিবৃতি দেয় নি।

আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা সম্পর্কে ট্রাম্প আরো বলেন, ওই হামলায় ইরান জড়িত কি না তা নিয়ে তদন্ত করছে আমেরিকা তবে তিনি এই মুহূর্তে মনে করেন হামলার পিছনে অবশ্যই ইরান জড়িত। ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন এবং তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন সৌদি আরবের পক্ষে তিনি কোনো নতুন সংঘাতে জড়াতে চান না। ট্রাম্প বলেন, আমি এমন একজন ব্যক্তি যে কিনা কখনো যুদ্ধ পছন্দ করে না।

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিবৃতি দেয়া হলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গতকাল তুরস্কে রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরব যে আগ্রাসন চালাচ্ছে তার জবাবে ইয়েমেনি জনগণ হামলা চালিয়েছে এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে এটা তাদের অধিকার।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ