প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুরু হয়েছে টিসিবি’র ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি
সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে, বললেন বাণিজ্য সচিব

স্বপ্না চক্রবর্তী : বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেছেন, যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত ও আমদানির পর্যায়ে রয়েছে তাতে আমরা আশা করছি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের চাহিদা ২৪ লাখ টন। উৎপাদনও প্রায় ২৪ লাখ টন। কিন্তু পচনের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সাড়ে ৭ লাখ টন। তাই আমাদের প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ টন আমদানি করতে হচ্ছে। ভারত একমাত্র আমদানির উৎস দেশ হওয়ায় তাদের বাজারের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশিয় বাজারে। তবে তা খুব শিগগীরই সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসবে বলে জানান তিনি। এদিকে ভোক্তাদের সুবিধার্থে মঙ্গলবার থেকে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) রাজধানীর ৫ টি পয়েন্টে ট্রাকে করে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে পেঁয়াজের উর্ধ্বমুখি মূল্য নিয়ন্ত্রণে অংশীজনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মো. জাফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবিরুনীসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, প্রধান পেঁয়াজ আমদানিকারক হাফিজ উদ্দীন। এসময় শাহ মো. আবু রায়হান আলবিরুনী বলেন, পেঁয়াজ সিজনাল এবং পচনশীল হওয়ার কারণে আমদানি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ টনের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের মজুত সন্তোষজনক। আমদানির পর্যায়ে রয়েছে ৪০ হাজার টন। এটা আসলে আমাদের লিংক পিরিয়ড। আগামী দেড় মাসে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ আসবে এবং ভারতে এর এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ নামবে। তখন ভারত বর্তমানে দেওয়া বেরিয়ারও উঠিনে নেবে। তখন সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তাই এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় আজ দিন ৫৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে ২৪ ঘন্টায় দাম কমে আসবে। আজকের বৈঠকের পর দাম কমে আসবেই তার প্রতিফলন মঙ্গলবার দেখা যাবে বলে জানান তিনি।

এসময় বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন বলেন, আজকের সভা থেকে খুব শক্তভাবে বলতে চাই আমাদের মজুত সন্তোষজনক। যেভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, সেটা আশা করি থাকবে না আজকের মিটিংয়ের পরে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বাণিজ্য সচিব বলেন, সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে দর বেশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ভারত সরকার পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য টন প্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে। আগে যেখানে ২৫০-৩০০ ডলারে আমদানি করা যেতো, তা ৮৫০ ডলারে এসেছে এবং বাংলাদেশে পেঁয়াজের দরে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

সচিবালয়ে সভায় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন, ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আলবিরুনীসহ অতিথিরা, বাজার তথ্যে দেখা গেছে, দেশের বাজারে রোববার থেকে পেঁয়াজের মূল্য কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা ভারত থেকে পেঁয়াজ না এলে দেশের বাজারে দাম আরও বাড়বে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, আমরা হিসাব করে দেখলাম আমদানি পর্যায়ে যেগুলো পাইপলাইনে আছে এবং বর্তমানে যে মজুত আছে, তা সন্তোষজনক। কাজেই আমার মনে হয় পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কারণ নেই। তিনি বলেন, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে বেশি গ্যাপ মনে হচ্ছে। এটা যাতে কমে আসে, সেজন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে আরও কিছু এজেন্সি এগুলো মনিটরিং করে থাকে। আশা করি মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। এই সমস্যাটা আর থাকবে না।

পাইকারি থেকে খুচরায় যে দাম বাড়ছে, আমরা সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলাম আজকে মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। আপনারা একটু ধৈর্য ধারণ করেন। আমাদের একটু সময় দেন। আশা করি এই সমস্যা থেকে খুব সহসাই বের হতে পারবো।

বাণিজ্য সচিব বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি রোধে ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ আমাদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাসের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এক থেকে দেড় মাসের জন্য এই সমস্যা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, আশা করি টিসিবি কার্যকর ভূমিকা পালন শুরু করেছে। এছাড়া বন্দরে আমদানি করা পেঁয়াজের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন এবং নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আজ-কালের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য চিঠি দেবো। ইতোপূর্বে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা কথা দিয়েছেন, মালামাল খালাস থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হবে না।

এ ব্যাপারে টিসিবি’র মুখপাত্র হুমায়ুন কবির জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত রোববার রাতে আমাদের ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশনা দেয়। কিন্তু ওই মুহুর্তে আমাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গতকাল সোমবার থেকে বিক্রি শুরু করা সম্ভব হয় নি। তবে মঙ্গলবার সকাল ১০ থেকে রাজধানীর ৫টা স্পটে ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। এই স্পটগুলো হলো চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে প্রেসক্লাব বা সচিবালয় গেইট, মতিঝিলের বলাকা চত্ত্বর, খামারবাড়ি অথবা মোহাম্মদপুর। অন্য দুইটি স্পট হচ্ছে মিরপুর এবং যাত্রাবাড়ি। এই ৫ ট্রাক পর্যাপ্ত কি না এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের নির্দেশনার একদিনের মাথায় যে আমরা ৫ টা ট্রাক বিক্রির জন্য তৈরি করতে পেরেছি তাই তো যথেষ্ট। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রথমে শুধু রাজধানী কাভার করলেও পর্যায়ক্রমে সারাদেশে টিসিবি’র ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি হবে বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ