প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই

আরিফা রাখি : শিক্ষার জন্য সংগ্রাম, ত্যাগ, বিজয়, গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক এই শিক্ষা দিবসের আজ ৫৭তম বার্ষিকী। ১৯৬২ সালের এই দিনে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী, শিক্ষা-সংকোচনমূলক শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে এবং একটি গণমুখী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজ ফুঁসে ওঠে। ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলন দমাতে পুলিশ ঢাকার হাইকোর্ট মোড়ে গুলি চালায়। পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফাসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের স্মরণে এই দিনকে ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

তিন স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ৮ বছর আগে সরকার শিক্ষানীতি তৈরি করে। সে অনুযায়ী গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ম শ্রেণির পরিবর্তে ৮ম শ্রেণিতে প্রাথমিক স্তর উন্নীতের কথা ছিল।

এছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে মাধ্যমিক স্তর উন্নীতের কথা আছে। এরপর উচ্চশিক্ষার স্তর। কিন্তু ৮ম শ্রেণিতে প্রাথমিক স্তর উন্নীতের কাজ পাইলটিংয়ের মধ্যেই সীমিত আছে। মাধ্যমিক স্তর পুনর্গঠনের পদক্ষেপই নেই।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আছে, যা বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষানীতি উপেক্ষা করে ৫ম ও ৮ম শ্রেণি শেষে জাতীয়ভাবে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে বাজেটে আলাদা বরাদ্দও নেই। শিক্ষা খাত পরিচালনায় শিক্ষা আইন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটিও ফাইলবন্দি। উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষায় বর্তমানে পাকিস্তানি আমল থেকে তেমন অগ্রগতি হয়নি। জ্ঞাননির্ভর অগ্রসর চিন্তার সমাজ তৈরির লক্ষ্য ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন। শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির লক্ষ্য ছিল এলিট শ্রেণি তৈরি, যা বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সম্পন্ন লক্ষ্য ছিল। বর্তমানেও সেই বৈষম্যমূলক শিক্ষা আছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা কিছুটা এগিয়েছে। কিন্তু সমাজে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন, ইংরেজি মাধ্যম ইত্যাদি বিভাজন আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা চালু হয়নি। ’৭৪ সালের কুদরতে শিক্ষানীতির আলোকেই প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ রেখেই একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতি ২০১০ সালে তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটির মৌলিক দিক বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তখন এই নীতির বিপক্ষে যারা ছিলেন তাদের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তকে আনা পরিবর্তন বাতিল করা হয়েছে। কোচিং ও নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বজায় রাখতে পিইসি ও জেএসসির মতো পরীক্ষা হুটহাট করে চালু করা হয়, যা শিক্ষানীতিতে নেই। ৮ বছর ধরে চলছে প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার পাইলটিং। তিন স্তরবিশিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়নি। শিক্ষকের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলও চালু হয়নি। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালের শিক্ষানীতি করা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ