প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত করা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে শুনানি, রায়ের অপেক্ষায় বরিস

লিহান লিমা: ব্রেক্সিটের পূর্বের কৌশলগত সময়ে পাঁচ সপ্তাহ যাবত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বন্ধ রাখার আইনি বৈধতা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুইটি আপিল শুনানি করবে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের রায়ের পূর্বে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বরিস বলেছেন, পার্লামেন্ট আহ্বান করা নিয়ে বিচারকরা কী বলেন তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

বিবিসিকে জনসন বলেন, তার বিচারবিভাগের ওপর অনেক সম্মান রয়েছে। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ব্রিটেনের অন্যতম গর্বের বিষয়। তাই আমি মনে করি আমার এটিই বলা ঠিক হবে যে, তারা কি বলে তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকা। এই সময় সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দিলে পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করবেন কি না এমন প্রশ্নে বরিস বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমি শুধুই বিচারকরা কি রায় দেন তার জন্য অপেক্ষা করতে পারি।’

ব্রিটেনের ছায়া অ্যার্টনি জেনারেল শামি চক্রবর্তী বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত স্কটল্যান্ডের রায়ই অনুসরণ করতে পারে।’ ব্রিটেনের সর্বোচ্চ এই আইনী বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন ১১জন বিচারক। গত দুই দিনে আদালতে দুইটি প্রশ্ন তোলা হবে। প্রথমত, বিচারকদের পার্লামেন্টের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে কি না। এবং দ্বিতীয়ত, এডিনবোরার আদালত পার্লামেন্ট স্থগিত করাকে অবৈধ বলে রায় দিতে পারে কি না। ইতোমধ্যেই ব্রিটেনের বিচারমন্ত্রী রবার্ট বার্কল্যান্ড বলেছেন, ‘এই বিচারকরা বিশ্বমানের, তাদের রায়কে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। সরকার আইন মেনে চলবে।’ যদিও এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব মন্তব্য করেছিলেন, আইনের শেষ দেখে ছাড়বে ডাউনিং স্ট্রিট।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতা আইনে পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যায়, আগামী ১৪ অক্টোবর রানি এলিজাবেথের ভাষণের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্ট চালুর কথা রয়েছে। বর্তমান সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরোনোর কথা রয়েছে ব্রিটেনের। বিরোধী দলগুলোকে ক্রমাগত পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে আসছে।

গত সপ্তাহে এডিনবোরার সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব সেশন’ বলেছে, পার্লামেন্ট স্থগিত করার অবৈধ। তবে লন্ডন হাইকোর্ট বলেছে, এটি পুরোপুরিই রাজনৈতিক বিষয় যা আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। বিবিসি জানায়, এই দুই রায়ের পর ডাউনিং স্ট্রিট স্কটল্যান্ডের আদালত এবং ব্যবসায়ী গিনা মিলার লন্ডনের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

সোমবার বরিস ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনা করতে লুক্সেমবার্গ গিয়েছেন। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা ব্রেক্সিটের বাস্তবসম্মত আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে বরিস দাবি করেন, ইইউ ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া ও একটি চুক্তির জন্য প্রস্তুত। যদিও সোমবার লুক্মেবার্গের প্রধানমন্ত্রী বরিসের ব্রেক্সিট অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন তিনি পরিস্থিতিকে ‘ঘোলাটে’ করে তুলছেন। লুক্মেবার্গে নির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন না বরিস। তবে এর জন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের বিশৃঙ্খলাকে দায়ী করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ