প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুরুষরাও সন্তানের বাবা হওয়ার পর মানসিক সমস্যায় ভোগেন

মুসবা তিন্নি :  সন্তান জন্মের আগে ও পরে অনেক ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় মাকে। তার মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক সমস্যা। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে সন্তান জন্মের পর মায়ের পাশপাশি মানসিক সমস্যায় ভোগেন অনেক বাবাও। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। বিবিসি বাংলা

অ্যাডভোকেসি গ্রুপ পোস্টপার্টুম সাপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাতজন মায়ের মধ্যে একজন আর প্রতি দশজন পিতার মধ্যে একজন শিশু জন্মের পর বিষণ্ণতার মতো সমস্যার শিকার হয়। গ্রুপটি বলছে, অন্য উন্নত দেশগুলোতে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যে অভিভাবক গ্রুপ এনসিটির গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পিতা হওয়া ব্যক্তিদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ তাদের মানসিক সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেন, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব আর ঘুমের স্বল্পতার মতো বিষয়। যেমন এডওয়ার্ডের কর্মক্ষেত্রের দায়-দায়িত্বের জন্য তার কাজটি আরও কঠিন হয়েছে।

বাচ্চাদের যত্ন-আত্তির ক্ষেত্রে মা-রাই প্রধান ভূমিকা নিয়ে থাকেন এবং পেশা-পরিবারের মধ্যে সমন্বয় আনতে গিয়ে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়। কিন্তু অনেক পিতাকেও এরকম সংগ্রাম করতে দেখা যায়, যেহেতু তার নিজের নিয়মিত চাকরির বাইরে অন্য কাজ অনেক বেড়ে গেছে।

সেন্টার ফর প্যাটারনাল লিভ লিডারশীপের প্রতিষ্ঠাতা অ্যামি বিকম মাইক্রোসফট ও ফিলিপস ৬৬টির মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যেখানে তিনি পিতৃত্ব কালীন ছুটির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ আর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সদ্য মা হওয়া নারীরা যেসব চাপ বোধ করতেন, তার অনেক কিছুই এখন পিতাকেও নিতে হচ্ছে। তাদের কাজটি এখন আর শুধুমাত্র সংসারে অর্থ আয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তার কথায়, ‘ এখন আশা করা হচ্ছে, পিতারাও বাড়িতে সময় দেবে। এর ফলে তাদের চাপের পরিমাণ বাড়ছে, বিষণ্ণতার মাত্রা বাড়ছে এবং তাদের উদ্বেগের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব তাদের কর্মক্ষেত্রেও পড়ে। তার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ দেয় যেন তারা নতুন বাবা হওয়ার সময়টাতে কর্মীদের মানসিক অবস্থার যাচাই করে দেখে, যা শিশু গর্ভে আসার পর থেকে বাবা-মার মধ্যে অন্তত এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। বিকম বলেন, ‘আমরা মায়েদের জন্য এটা এখন করছি, কিন্তু আমরা বাবাদের ক্ষেত্রে করার কথাও বলছি’।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং হংকংয়ে নানা প্রতিষ্ঠানে বাবা-মাদের চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ডেলোইট এবং এইচএসবিসির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি বলছেন, চাকরি দাতারা এই ব্যাপারটিকে নারী ও শিশুদের ব্যাপার বলে নয় বরং পরিবার ও অভিভাবকের বিষয় বলে দেখতে চাইছেন।

বাস্তবতার দিক থেকে বলতে গেলে, এর আগে শুধুমাত্র নারীদের কথা চিন্তা করেই নানা ধরনের ব্যবস্থা ছিল। যেমন সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর যত্নের জন্য ছুটি বা অফিসে সুবিধাজনকভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করে দেয়া। স্তেজকো বলেন, ‘অনেক পুরুষও এভাবে শিশুর যত্ন নিতে কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনো তা গ্রহণ করা হয় না’। সম্পাদনা : মহসীন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত