প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাস্তবায়নের গোলকধাঁধায় সরকারি চাকরি আইন, অভিন্ন পে স্কেল বাতিলের শঙ্কা

আহমেদ শাহেদ : প্রায় এক বছর আগে বহুল আলোচিত সরকারি চাকরি আইনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও আইনটি বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্নিষ্টরা মনে করেন, আইনটি কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের অভিন্ন পে স্কেল থাকবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করতে পারবে। আর অভিন্ন বেতন স্কেল পদ্ধতি বাতিল হলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার আশঙ্কা রয়েছে। সমকাল

জানা যায়, সরকারি চাকরি আইন প্রণয়নের আগে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতা সংক্রান্ত ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইন বাতিল করা হয়। এর আলোকেই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য অভিন্ন পে স্কেল দেওয়া হয়। আইনটি না থাকলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অভিন্ন পে স্কেল না মানলেও আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি সরকারি চাকরি আইনটি সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আবারও সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আইনটি প্রণয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের অনেকেই মনে করেন, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট গাফিলতি ছিল। এ জন্য বাস্তবায়নের আগেই আইনটি সংশোধন করতে হচ্ছে।

 

বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনু বিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি আইন প্রয়োজন হলে সংশোধন করা যাবে। এ জন্য বাস্তবায়ন আটকে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আইনটি বাস্তবায়ন হলে কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই ‘চাকরিজীবী শৃঙ্খলা’ এবং ‘উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ’ এ দুটি আইনের আলোকে দুটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। বিধিমালাগুলোর খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে সরকারি চাকরি আইন বাস্তবায়ন করা যাবে।

 

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রবিধি) মো. শাহজাহান বলেন, সরকারি চাকরি আইন কার্যকর হলে কিছু বিষয়ে জটিলতা হতে পারে উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সার্বিক সিদ্ধান্ত নেবে।

 

স্বাধীনতা-পরবর্তী ৩৬ বছরেও সাংবিধানিক অঙ্গীকার ‘সিভিল সার্ভিস আইন’ কোনো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। বিভিন্ন সময়ে করা বিধিমালা দিয়ে চলে প্রশাসন। এ বিধিমালার অজুহাতে প্রশাসনকে বিগত সরকারগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে প্রশাসনে রাজনীতিকীকরণ হয়। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ও প্রশাসনকে গতিশীল করতে ২০০৭ সালে প্রথম ইউএনডিপির সহায়তায় সরকারি কর্মচারী অ্যাক্টের খসড়া তৈরি করা হয়। কিন্তু ওই অ্যাক্টও আলোর মুখ দেখেনি। এটি নিয়ে প্রায় ১১ বছর পর্যালোচনার পর গত বছরের শেষের দিকে আইনটির গেজেট জারি হয়। খসড়ার পর চারবার আইনটির নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। গেজেট জারির আগেও একবার নাম পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ সরকারি কর্মচারী আইনের পরিবর্তে এর নাম দেওয়া হয় সরকারি চাকরি আইন। এ আইন করতে গিয়ে খরচ হয় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। বেশিরভাগ অর্থই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, সভা ও সেমিনারের নামে খরচ করা হয়। তারপরও বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা।

 

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ অক্টোবর সরকারি চাকরি আইন সংসদে পাস হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। চাকরি আইন কার্যকর হলে এর ৬১ ধারা অনুযায়ী পুরনো ছয়টি আইন বাতিল করতে হবে। কিন্তু স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতা সংক্রান্ত ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইন বাতিল করলে অভিন্ন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হবে। ফলে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সরকারি চাকরি আইন বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ। তাদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় মতামত দেয়। সম্প্রতি এ নিয়ে জনপ্রশাসন, অর্থ এবং লেজিসটিক ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ে পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকেও স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মরতদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা স্পষ্টকরণের জন্য আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগের মতামতে উল্লেখ করা হয়- ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইন রহিত হলে পাবলিক বডি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর অভিন্ন পে স্কেলের আইনগত ভিত্তি থাকবে না। বাস্তবে অধিকাংশ পাবলিক বডি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করে এবং ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনের ৫(১) ও (২) ধারাবলে সরকার পাবলিক বডি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করে। এ আইন রহিতের পর ওইসব প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সরকার ওইসব প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করে দিলে তার আইনগত ভিত্তি না থাকায় অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আবার ওইসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইনবলে ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্কেল নির্ধারণ করলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর আংশিক সংশোধনপূর্বক ওই আইনের ৬১ ধারায় রহিতকৃত ছয়টি আইনের মধ্য থেকে ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনটি পুনর্বহালের প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এ ছাড়া চাকরি আইনের ৫০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে গেলে বা চাকরির পরিসমাপ্তি ঘটলে আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী তার সুবিধা পাবেন। অথচ ১৭ নম্বর ধারাটি হচ্ছে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত। আইন মন্ত্রণালয় এই ধারাও সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

অর্থ বিভাগের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১ ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা সমজাতীয় দলিলে ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে সরকারি চাকরি আইনের বিধানাবলি স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। আইনটি স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য না হলেও আইনের কতিপয় ধারা তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ প্রসঙ্গে সরকারি চাকরি আইনের ১-এর ৪ নম্বর উপধারার কথা বলা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনের ধারা ৫-এর ১ ও ২ উপধারার বিষয়বস্তু হলো বেতন গ্রেড, স্কেল ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ সংক্রান্ত। চাকরি আইনের ১৫ ধারার বিষয়বস্তু একই। অর্থাৎ সরকারি চাকরি আইনের ১৫ নম্বর ধারা ১৯৭৫ সালের চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনের ৫ ধারার ১ ও ২ উপধারার বিষয়বস্তুর প্রতিফলনে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এ সংযোজিত হয়েছে। কাজেই ১৯৭৫-এর চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনের ৫-এর ১ ও ২ উপধারা যাদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, সরকারি চাকরি আইনের ১৫ নম্বর ধারা তাদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার পুনরায় বলেছেন, সরকারি চাকরি আইনের ১৫ নম্বর ধারা সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ সংক্রান্ত। এ ধারাটি স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি-না সে বিষয়টি স্পষ্ট হয় না। এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করতে তিনি লেজিসটিক ও সংসদবিষয়ক বিভাগকে অনুরোধ করেন। এরপর লেজিসটিক ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক মতামতে বলেন, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর পরই জাতীয় বেতন স্কেলের আদেশ জারির প্রয়োজন হবে না। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগে জটিলতা সৃষ্টি হলে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে আইনটি সংশোধনক্রমে বিধান সংযোজন-বিয়োজন করা যেতে পারে।

 

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি চাকরি আইন দশম সংসদে পাস হয়েছে। এরপর আইনটি কেন কার্যকর হয়নি সে বিষয়টি আমার জানা নেই।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকারি চাকরি আইনের সঙ্গে অভিন্ন পে স্কেলের জটিলতার বিষয়টি সমাধানের জন্য অর্থ বিভাগ আগেই প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটি উপেক্ষা করে। আইনটি বাস্তবায়নের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। আইনটি মূলত পার্শ্ববর্তী দেশের আইনের আদলে করা হয়েছে। এতে সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধারাটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্নিষ্ট সূত্র আরও জানায়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত হয়। তবে প্রশাসন নিজেদের নিয়মে চলে। পেনশনের আওতাভুক্ত নয়। ফলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো এ আইনের কার্যকর চাইবে। এটি কার্যকর হলে তারা আলাদা বেতন কমিশন গঠনের সুযোগ পাবে। এতে তারা পেনশন বঞ্চনার কথা বলে বেশি বেতনের দাবি করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে তাদের বেতন বেশিও নির্ধারণ হতে পারে। নিজেদের স্বার্থ আদায়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। এতে রাষ্ট্রের বেতন কাঠামো নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এরই মধ্যে জুডিসিয়াল সার্ভিস নিজেদের পে কমিশনের মাধ্যমে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করায় সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারি চাকরি আইন কার্যকর করার আগেই সংশোধন প্রয়োজন।

 

সাধারণত পাঁচ বছর পর পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরে অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ২০২০ সালে নতুন বেতন কাঠামো গঠন হতে পারে। যদিও আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, শিগগির বেতন বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো কার্যকরের পর ২০১৭ সালের ৯ মে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কৌশল খুঁজতে নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। এতে দ্রুত বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হলে শিগগির সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

 

এ বিষয়ে জাতীয় বেতন এবং চাকরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলি) আইনের ফলে বেতন কাঠামো নির্ধারণে গতবার সবাই সমান সুবিধা পেয়েছে। এখন এ আইন কেন বাতিল করা হলো, বাতিলের পর সমাধান কী হবে সেটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল। তবে অভিন্ন বেতন কাঠামো বাতিল হবে এমন আইন কোনোভাবেই কার্যকর করা ঠিক হবে না। এটি হলে রাষ্ট্রের বেতন কাঠামোয় বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

এএস/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ