প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টিসিবির হাতেই পেঁয়াজ নেই, আজ রাজধানীর মাত্র ৫ স্পটে  বিক্রি শুরু

খালিদ আহমেদ : গুদাম ফাঁকা, আগাম প্রস্তুতিও ছিলো না।  রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রি অসম্ভব জেনেও রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়– সোমবার থেকেই ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করবে রাষ্ট্রীয় বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে, কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি করা যায়নি। দেশ রূপান্তর

টিসিবি জানিয়েছে, সোমবার সীমান্ত এলাকা থেকে কিছু পেঁয়াজ সংগ্রহ করেছেন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত পাঁচটি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

টিসিবির তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, টিসিবির কাছে আগে থেকে কোনো পেঁয়াজ ছিলো না। রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে আমাদের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গিয়ে স্থলবন্দরগুলো থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। ইতিমধ্যে তারা কিছু পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। মঙ্গলবার সেসব পেঁয়াজ অন্তত পাঁচটি খোলা ট্রাকে রাজধানীতে বিক্রি করা হবে। আরও পেঁয়াজ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খোলাবাজারে বিক্রি করা হবে।

তিনি আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রির পাশাপাশি মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসর থেকেও পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা চলছে। এসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এতে বাজারও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মঙ্গলবার জরুরি সভা ডেকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সভায় পেঁয়াজের আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে করণীয় নির্ধারণে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা  বলেন, এতদিন ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি করা হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে। হঠাৎ করে ভারত সরকার নিজ দেশে পেঁয়াজের দর স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানির সর্বনিম্ন দর ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে বাংলাদেশেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, নতুন পেঁয়াজ আমদানির আগেই পুরানো পেঁয়াজ নতুন দামে বিক্রি করতে শুরু করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন সিন্ডিকেটবাজির কথা।

তিনি জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশল নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ীদের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই সঙ্গে পাশের দেশ মিয়ানমার, তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানাবে মন্ত্রণালয়।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সোমবার পেঁয়াজের দর উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল ছিলো। বিভিন্ন বাজারে একেক দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। মানভেদে বাজারগুলোতে খুচরা দর ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। তবে কোনো কোনো দোকানি ৮০ টাকা দরেও পেঁয়াজ বিক্রি করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, যা দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। ঘাটতি মেটাতে ৮ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আমদানি করা পেঁয়াজের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই আসে ভারত থেকে। বাকি ১০ থেকে ২০ শতাংশ আমদানি হয় মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসর থেকে।

কেএ/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ