প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জন্ম পরিচয় সংকটে নবজাতকের ঠিকানা আজিমপুর ছোটমনি নিবাস

মাজহারুল ইসলাম : জন্ম পরিচয় সংকটের কারণে হাসপাতালে ফেলে যাওয়া মেয়ে নবজাতক সারাকে আজ আজিমপুর ছোটমনি নিবাসে হস্তান্তর করা হবে। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।

তিনি জানান, নবজাতক প্রথম থেকেই সুস্থ্য আছে। তাকে কৌটার দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। এখনও তাকে ফেলে যাওয়া বাবা মা অন্য কেউ হাসপাতালে এসে যোগাযোগ করেনি। তাই মঙ্গলবার দুপুরে নবজাতকটিকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধিনে ছোটমনি নিবাসে হস্তান্তর করা হবে। সেখানেই নবজাতকটির পরিচর্যা হবে। তবে তাকে যদি কেউ দত্তক নিতে চায় তাহলে আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থায় নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নবজাতক সারার বয়স ৪ দিন। জন্মের ২ দিনের মাথায় হাসপাতালে তাকে ফেলে পালিয়ে যায় তার বাবা-মা।  নবজাতক এই মেয়ের সারা নামটি রেখেছে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র জন্ম পরিচয় সংকটের কারণে বাবা-মা দুজনেই ফেলে গেছে ফুটফুটে এই কন্যা শিশুটিকে। সারার মায়ের বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তার জন্ম। এটা নিয়েই মূলত বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বের শুরু।

ঢাকা মেডিকেলের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে জন্ম নেয় নবজাতকটি। ওই সময় এ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছন্দার মা ফরিদা বেগম জানান, ম্যাট-০৪ এর ২৪ নম্বও বেডে নবজাতককে ফেলে যায় তারই বাবা-মা। ঘটনার দিন দুপুরে নবজাতক মা নাহারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বাবা রাসেলের। রাসেল তার স্ত্রীকে বলেন, তোমাকে বিয়ে করেছি মাত্র ৬ মাস। অথচ বাচ্চার বয়স ১০ মাস। এটা তো আমার বাচ্চা না। তাহলে এই বাচ্চার দায়িত্ব আমি কেনো নিবো? বায়োলজিকালি আমি এই বাচ্চার বাবা না। এটা কার বাচ্চা? শিশুটির মা বলেন, তুমি তো আগের স্বামীর কাছ থেকে আমাকে নিয়ে এসেছো। এখন খারাপ ব্যবহার করছো কেনো। পরে রাসেল তার মুঠোফোনে শিশুটির ছবি তোলেন। পরবর্তীতে সে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর নাহার তার মাকে ফোন দিয়ে বলেন, গাড়ি নিয়ে এসে আমাকে নিয়ে যাও। কিছুক্ষণ পর তার মা একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসে তাকে নিয়ে যায়। আমি নাহারের হাত ধরে অনুরোধ করে বলি, শিশুটিকে ফেলে যাবেন না।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য বলেন, নবজাতক ওয়ার্ডে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ। শিশুটির বাবা ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দিলেও সে জোর করে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর আমাকে বকাঝকা শুরু করে। শিশুটির মা’ও তখন চলে আসে। এরপর তারা দুজনেই একসঙ্গে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় শিশুর মা’কে বাচ্চা নিয়ে যেতে বললে তিনি জানান, বাচ্চা লাগবে না আমার।

ঢাকা মেডিকেলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার অধীনে থাকলেও কে নবজাতকটির বাবা-মা, সেটা চিহিৃত করা বেশ কঠিন। তাছাড়া সিজারের আগে তারা অসম্পূর্ণ ঠিকানা দিয়েছে। ফলে তাদেরকে সরাসরি চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। হয়তো শিশুটির জন্ম পরিচয় সংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে।

এএস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ