প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবসর নিয়েই পীর হলেন পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে পীর সেজে পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তা তার স্ত্রী সন্তান, ছোট ভাইসহ প্রায় সবাইকেই বাড়ি ছাড়া করেছেন। জিম্মি দশায় আছেন তার অসহায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ মা।

চলাচলের অযোগ্য মাকে কথিত ভণ্ড পীর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে আসছে। তিনি নামাজ রোজাকে বিশ্বাস করেন না। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা টাকা।

কথিত ভণ্ড পীর খন্দকার আনোয়ার হোসেন (৬০) ওরফে দয়াল বাবা আনোয়ার শাহ টাঙ্গাইলের নাগরপুরের জগতলা এলাকার মৃত খন্দকার কেরামত আলীর ছেলে। তিনি সর্বশেষ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক থেকে ২০১৮ সালে অবসরে আসেন। এলাকায় এসেই তিনি পীর বনে যান।

তার ছোট ভাই অহিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমার ভাই হঠাৎ করেই কিভাবে পীর বনে গেল আমি কিছুই জানি না। তার শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নারীদের নির্জন কক্ষে তালিমের নামে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরোধিতা করতে গিয়ে আমি বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় আছি। আমার ও আমার মৃত বড় ভাইয়ের বাড়ির যায়গা বেদখলসহ আমার কমার্শিয়াল বিদেশি কবুতরের খামারটিও ধ্বংশ করে দিয়েছে।

আফজাল হোসেন নামে কথিত পীরের গ্রামের ইউপি সদস্য বলেন, আনোয়ার কীভাবে পীর হয়ে গেল, আমার এলাকার কেউ জানে না। তবে এ এলাকার কাউকে ওনার দরবারে যেতে দেখি না। আনোয়ার যেসব এলাকায় চাকরি করতো ওইসব এলাকার লোকজনই বেশি আসে। আমরা কিছু বলতে পারি না তার কারণ তিনি অনেক প্রভাবশালী।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের ভিতরে একটি ব্যানারে লেখা শাহান শাহ বাবা রাহাত আলী শাহের আধ্যাত্মিক ও রুহানী সন্তান, দয়াল বাবা আনোয়ার শাহ জগতলা দরবার-এ-এলাহী ও বাংলাদেশ বেতারের গীতিকার দয়াল বাবা আনোয়ার শাহ।

ঘরের এক কোনে তার বৃদ্ধা মা জ্বরে শীতে কাতরাচ্ছেন দেখার কেউ নেই। তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় প্রতিবেদক। কারণ বয়সের ভারে জরাজীর্ণ ও অসুস্থতার কারণে ন্যুইয়ে পড়েছেন তিনি। এসময় কথিত ভণ্ড পীরের সঙ্গে একই গ্রামের তপনের স্ত্রী নাছিমাকেও দেখা যায়।

এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ার হোসেন ওরফে আনোয়ার শাহ বলেন, আমার কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসে। কারও কাছ থেকে খেলাফতি নেইনি, তবে আমি এখন পীর। প্রতি বছর ১০ মহরম আমি ওরশ পালন করে থাকি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ