প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাবার পাশ করানো আইনেই আটক ফারুক আব্দুল্লা, ৮৩-র বৃদ্ধ এই নেতা ছড়াতে পারেন অশান্তি!

রাশিদ রিয়াজ : জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সময় মানে গত ৫ আগস্ট থেকে গৃহবন্দি ফারুক আবদুল্লা । অথচ যে আইনে আটক তিনি তা ১৯৭০-এ পাশ করান তার বাবা শেখ আবদুল্লা। সরকারি বিশৃ্ঙ্খলা আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে ৮৩ বছর বয়স্ক এই নেতার বিরুদ্ধে। এ আইনে কোনও বিচার ছাড়াই কাউকে দুবছর পর্যন্ত আটক করে রাখা যায়। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, রাজ্যে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি তৈরি করে ভারত সরকার, একইসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার অথবা আটক করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি।

সরকারি বিশৃ্ঙ্খলার সম্পর্কিত আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে শ্রীনগরের সাংসদ ফারুক আবদুল্লা-র বিরুদ্ধে, এই অর্থ, বিচার ছাড়াই তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত আটক থাকবেন তিনি। শ্রীনগরে তাঁর বাড়িটি “জেল” হিসেবে ঘোষিত হবে। কাঠের চোরাচালান ঠেকাতে এই কঠোর আইন আনা হয়। এই আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের ঊর্দ্ধে যে কোনও ব্যক্তিকে আটক করতে পারে সরকার, এবং দুবছর পর্যন্ত তার কোনও বিচার নাও হতে পারে। ২০১১-এ এই বয়োসীমা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৮ করা হয়।

কয়েক দশক ধরে, এই আইন ব্যবহার করা হয়েছে, জঙ্গি, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং পাথ ছোঁড়ার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে। ২০১৬-এ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর, কাশ্মীর উপত্যকায় যে প্রতিবাদ হয়, তারপরে, ৫৫০ –এরও বেশী লোককে জননিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়।

গতমাসে, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে, প্রথমবার, জন নিরাপত্তা আইনে আটক হলেন একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ তথা মূলধারার একজন রাজনৈতিক নেতা।

সোমবার ফারুক আবদুল্লাকে ‘বেআইনিভাবে আটকের’ প্রতিবাদে দায়ের একটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। এই শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ আগে ফারুক আবদুল্লাকে পিএসএ-র আওতায় আটক করার নির্দেশিকা জারি করে জম্মু-কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দফতর।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ১২ দিনের জন্য পিএসএ-র আওতায় আটক করা হয়েছে অশীতিপর এই রাজনীতিককে। তার মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাঁকে আটক রাখার মেয়াদ আরও ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে।

গত ৬ অগস্ট লোকসভায় ফারুক আবদুল্লার অনুপস্থিতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। যার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘বর্ষীয়ান এই নেতাকে আটক অথবা গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি স্বইচ্ছায় নিজের ঘরে আছেন।’ কিন্তু সরকার যা বলছে বাস্তব পরিস্থিতি তা নয়, এমন দাবি করে আসছিল বিরোধীরা। স্বভাবতই ফারুক আবদুল্লার মতো বর্ষীয়ান নেতাকে PSA-র আওতায় আটক করে রাখার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিরোধী দলগুলি।

কংগ্রেসে বলেছে, যে নেতা দেশের ঐক্য এবং অখণ্ডতার জন্য লড়াই করেছেন তাঁকে পিএসএ-র আওতায় আটক করার ঘটনা দেশের জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’। একই মত এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসির। কেন্দ্রের কাছে তাঁর প্রশ্ন, ‘যখন একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সিএসএ আইনে আটক করতে হয় তখন কাশ্মীরে আপনারা কোন ধরনের স্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা বলছেন?’ বামেদের তরফেও গোটা ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ