প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাকা না পেয়ে এনজিও কর্মী হাসিকে হত্যা করে সাবেক স্বামী সোহেল

মাসুদ আলম : গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাসি আক্তার ও সোহেল রানার। দুই মাস না যেতেই পরিবারে নেমে আসে অশান্তি -কলহ। পরে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। বিচ্ছেদের পর হাসি মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপরেও বেঁচে থাকার তাগিদে সে একটি এনজিওতে চাকুরী নেয়। তারপর থেকে হাসির কাছে টাকা দাবি ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে সোহেল। টাকা না দেয়ায় গত ১ মে সাভারের ভাড়াবাসায় ঢুকে হাসি আক্তারকে পিটিয়ে ও মাথা থেঁতলে গুরুতর জখম করে ৩০ হাজার টাকাসহ দেড় লাখ টাকার সমমূল্যের জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় সোহেল। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মে মারা যান হাসি।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, রোববার রাতে কুমিল্লা জেলা শহরের ধর্মসাগর পার্কের সামনে থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। আমীন বাজার শিবপুর এলাকার নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো হাসি। তাকে অফিসে যাওয়া আসার পথে এবং বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করতো। তার কাছে টাকা দাবি করতো সোহেল। হাসিকে উত্যক্ত না করা ও তার বাসায় যেতে সোহেলকে নিষেধ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে আরো বেশি উত্যক্ত করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে হাসিকে হত্যার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে। গত ১ মে হাসির অফিস বন্ধ থাকায় সোহেল তার বাসায় যায়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে এবং ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে জখম করে। পরে এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদিকে হত্যার হুমকি দেয় সোহেল। সোহেল অনলাইনে ব্যবসা করতো। পরিবারের সঙ্গে দারুস সালামে থাকতো। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নবীনগর এলাকায়। হাসির বাড়িও একই জেলায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ