প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার জাবি ভিসির অপসারণ চাইলেন ফখরুল

শিমুল মাহমুদ : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত অথবা তাকে পদচ্যুত করা উচিত।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “আজকে আমার কাছে একটি নতুন খবর আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যে ঘুষ চাওয়ার অপরাধে ছাত্রলীগের যে দুই শীর্ষ নেতা কে পদচ্যুত করা হয়েছে এটাকে আবার নতুন নাম দিয়েছে তারা। কি দিয়েছে বলুনতো? ফেয়ার শেয়ার।  ৫% – ১০% ঘুষ যে নেবে এটা হল ফেয়ার শেয়ার।  এই ফেয়ার শেয়ার এর মধ্যে আবার এখন ভাইস-চ্যান্সেলর নাম চলে এসেছে। উনি নাকি ইতিমধ্যে এক কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন।  দ্রুত তার পদত্যাগ করা উচিত না হয় তাকে অব্যাহতি দেওয়া দরকার।

সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা স্বীকার করেছেন যে করাপশন চলছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে হাজার চেষ্টা করে থলের বিড়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কালো বিড়ালের মত বের হয়ে আসছে এবং এগুলো এখন জনগণের কাছে পুরোপুরি চলে গেছে।

তিনি বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্র ভর্তি করছে রাতের বেলা। কোথায় আছে দুর্নীতিমুক্ত জায়গা?  প্রতিটি জায়গায় পরীক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচারালয় কোথাও যাওয়া যায় না।

ফখরুল বলেন, কালকে আমাদের পুলিশ কমিশনার ভালো ভালো কথা বলেছেন। তার একটা কথা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। যদি কেউ কোন কাজ না করে এবং সেবার বিনিময়ে যদি কোন অর্থ দাবি করে তাহলে আমাদেরকে জানাবেন আমরাই গিয়ে সেখানে বসবো।

ফখরুল বলেন, যারা মিথ্যা বলে জনগণের সাথে প্রতারণা করে জোর করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে থাকে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। এটা অবৈধ সরকার এই পার্লামেন্ট অবৈধ। সুতরাং অবিলম্বে পার্লামেন্ট বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে একটি নতুন নির্বাচন করতে হবে এবং সে নির্বাচনে নতুন সরকার নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে। এই হচ্ছে জনগণের দাবি আজকে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে কারণ জনগণের প্রতিক গণতন্ত্রের প্রতীক তিনি আইনসম্মতভাবে যেটি পান  জামিন সেই জামিন নিশ্চিত করতে হবে। কেন তাকে আটকে রেখেছেন এত ভয় পান কেন? ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে একটি নাটক করলেন কেন?  তাহলে গণতন্ত্রকে আপনারা চলতে দিতে চান না।যারা গণতান্ত্রিক ভাবে কাজ করতে চায় তাদেরকে আপনার কাজ করতে দিতে চান না তাদের পথকে আপনারা বন্ধ করে দিতে চান।

আসামের নাগরিক পঞ্জি ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ফখরুল বলেন, জনাব ওবায়দুল কাদের বলেছেন আমরা ভারত সরকারকে বিশ্বাস করতে চাই। আমরা উদ্বিগ্ন। ধিক্কার জানাই এই নতজানু পররাষ্ট্র নীতি কে ধিক্কার জানাই এই মানসিকতাকে।  আমার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যদি এক বিন্দু ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলার মানুষ কোনদিন তা মেনে নিবে না। মুক্তিযুদ্ধ করেছে ১৯৭১  সালে। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দরকার হলে আমরা আরো বড় যুদ্ধে অবতীর্ণ হব।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে দশ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে। একজনকে ও তাদের দেশে ফেরাতে পারেননি। ভারত-চীন নাকি আমাদের বড় বন্ধু। তাহলে বিষয়টা কি হলো। এদিকে আসামে এনআরসি প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে ১৯ লাখ লোক বাদ দেয়া হয়েছে। আসামের মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বলেছেন এদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

ফখরুল বলেন, আজকে এই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার হাতে গণতন্ত্র স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ তাকে হত্যা করার জন্য এইভাবে কারাগারে আটকে রেখেছেন। যে মামলায় তাকে আটক করে রাখা হয়েছে, সাজা দেয়া হয়েছে এরকম মামলাতেই আওয়ামী লীগের বহু নেতা জামিন নিয়ে বাহিরে আছেন। অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি বের হয়ে আসেন তাহলে জনগণকে সংগঠিত করে এই অপশাসন, অন্যায়- অত্যাচার, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে নিজের প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন তা মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা তাদের নেই বলেই তাকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, এই সরকারের জনগণের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। এই সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বলেই শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোটের আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে তাদেরকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে হয় এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়। তারা ক্ষমতা টিকে থাকার জন্যই দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের পথ বেছে নেয়। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ভৌতিক মামলা দেয়া হয়েছে এবং এসব মামলা কাজে লাগিয়ে তারা নির্বাচনের পূর্বে নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার করছে ও বাড়িঘরে থাকতে দেয়া হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের উপর এক লক্ষ মামলা দিয়েছে যেসকল মামলায় আসামি ২৬ লক্ষ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে এই রকম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, আজকে এই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভীতটাকেই নষ্ট করছে। সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে এবং বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করে ফেলেছে।  আজকে গণতন্ত্রের প্রধান বিবেক যাকে বলা হয় সেই মিডিয়াকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা অনেকটা সফলও হয়েছেন।

ফখরুল বলেন, আজকে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না কিসের ভয়? ফ্যাসিবাদের ভয়। কথা বললেই তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, কথা বললেই মামলা হবে। তিনি বলেন, যারা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী আছেন, অধ্যাপক আছেন কথা বলেন বিভিন্ন জায়গায় যান তারা আজকে কথা বলার কোনো সাহস জানতে পারছেন না কারণ তাদের কখন রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে তারা জানান না। তিনি আরো বলেন, এটি একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র এই রাষ্ট্রকে শুধু স্বৈরাচারের সাথে তুলনা দেয়া চলে অন্য কিছুর সাথে ।             সম্পাদনা : মুসবা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ