প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোভন-রাব্বানীর বিচার ও ডাকসু থেকেও পদত্যাগের দাবি উঠেছে

মহসীন কবির : ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর পদচ্যুতির পর এ দুজন নেতার বিচারের দাবি উঠেছে।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে একটি সামাজিক যোগাগোগ মাধ্যমে অডিও ফাঁস হয়েছে। সদ্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানো গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম ােসাইনের এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ইমেজ সংকটে পড়েছে ছাত্রলীগ।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, তাদের বিচার না হলে বা তাদের যারা রাজনৈতিকভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তাদেরও জবাবদিহীতার মধ্যে না আনতে পারলে এটি ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগকে ভাবমূর্তির সংকটে ফেলেতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আকতার বানু বিবিসিকে বলেছেন, নেতৃত্বের এই অন্যায়ের জন্য ছাত্র সংগঠনটিকে নিয়েই সাধারণ ছাত্রদের মাঝে একটা খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে। পুরো ঘটনাটি নি:সন্দেহে খুবই বিব্রতকর। কারণ এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো যে, ছাত্রনেতারা এইসব অপকর্ম করছেন। যদি না করতেন, তাহলে এমন অভিযোগও আসতো না। তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটতো না। পাশাপাশি একটা ভাল দিকও আছে যে, প্রধানমন্ত্রী কারও কথায় কান না দিয়ে পরিস্থিতিটার লাগাম টেনে ধরার জন্য এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটা খুবই ইতিবাচক।

এদিকে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, যে কারণে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ খুইয়েছেন রাব্বানী, সেই কারণে ছাত্র সংসদের জিএস পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, রাব্বানী যেহেতু ছাত্রলীগের মনোনয়নেই ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হয়েছেন এবং সেই ছাত্রলীগ থেকেই বিভিন্ন ‘অপকর্মের’ কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাই ডাকসুর জিএস থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন তিনি।

শুধু পদচ্যুত করা নয় শোভন ও রাব্বানীর বিচার দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, দু’টি ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির সংবাদ যেমন এসেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলের সংবাদও তেমনি এসেছে। সোহেল বলেন, আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির অভিযোগে দুজনকে পদচ্যুত করা হয়েছে। শুধু পদচ্যুত করলেই হবে না। তারা অপরাধী, তাদের বিচার করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এতে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে দেশে কি হারে দুর্নীতি চলছে। শুধুমাত্র একটা প্রকাশ হয়েছে। যে কারণে একটা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এটা সারাদেশেই চলছে। এটা প্রমাণ করে যে দুর্নীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে তাদের পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার ব্যাপারে আমরা আরো আগে বলেছি। তারা বেশি বাড়াবাড়ি করেছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আদর্শহীন রাজনীতির কারণে তাদেরকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তারা নামতে নামতে কোন পর্যায়ে যেতে পারে এটা একটা দৃষ্টান্ত মাত্র। সার্বিক রাজনীতি বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে এবং শাসন প্রশাসনের সকল স্তরে দুর্নীতি ও লুটতরাজ প্রক্রিয়া যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ পেয়ে গিয়েছে তাতে এ ঘটনার মাধ্যমে সদিচ্ছার একটা বার্তা দেয়া গেলেও সার্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তন কতটা সম্ভব হবে-তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যে অভিযোগে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতাদেরকে অব্যাহতি দিলে এ ধরনের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। শোভন ও রাব্বানীর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেই শেষ মূহুর্তে মুখ রক্ষার জন্য তাদেরকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তাদের অপরাধের জন্য এ অব্যাহতি একমাত্র শাস্তি নয়।

সিনেট ও ডাকসু থেকে চাঁদাবাজ শোভন ও রাব্বানীকে বহিষ্কার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নেতারা বলছেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জি এসকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদাবাজের অভিযোগে যারা দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন তারা ডাকসু ও সিনেটের সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন না। এদিকে ছাত্রলীগকে সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাÐ থেকে মুক্ত করে ইতিবাচক ধারায় ফেরাবেন বলে প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ