প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেপ্তার এড়াতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ পলাতক, এরই মাঝে চলছে ‘মাসুদ রানা’র নির্মাণযজ্ঞ

মুসবা তিন্নি : জনতা ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে মামলায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ (এম এ আজিজ) পলাতক হলেও নানা রোশনাই নিয়ে চলছে তার বৃহৎ বাজেটের ছবি ‘মাসুদ রানা’র নির্মাণযজ্ঞ। অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামির মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানই তদন্তের আওতায় আসা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা টাইমস

৮৩ কোটি টাকার ছবি ‘মাসুদ রানা’র নায়ক চরিত্র বাছাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে কাজ প্রায় শেষ। আবার হলিউড থেকে কো-প্রযোজক এসে চ্যানেল আইয়ের বাইরে থেকে অডিশন নিয়ে গেছে কয়েকজনের। এ নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বের উপক্রম চ্যানেল আইয়ের।
একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকার কারণে আব্দুল আজিজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করতে পারেননি বলে চ্যানেল আইয়ের রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে ‘মাসুদ রানা’য় আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই হলিউড থেকে প্রতিনিধির মাধ্যমে নিজের নির্দেশনামতো বাইরের কয়েকজনের অডিশন নিয়েছেন মাসুদ রানা নির্বাচনের জন্য।

বিদেশে টাকার পাচার মামলায় আব্দুল আজিজ পালালেও তার ভাই ক্রিসেন্ট গ্রুপের কর্ণধার এম এ কাদের গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে। গত ৩০ জানুয়ারি এম এ কাদেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে কাদের ও আজিজসহ ক্রিসেন্ট গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ১৩ ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করে সংস্থাটি। গ্রেপ্তার এম এ কাদের আদালতে দোষ স্বীকার করে টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করলেও ব্যাংকে টাকা ফেরত আসেনি এখনো। এই দুই ভাইয়ের নামে মামলা আছে দুদকেরও। জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে এম এ কাদেরসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে দুদক। মামলার অন্যতম আরেক আসামি এম এ কাদেরের ভাই রিমেক্স ফুটওয়ারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। তারই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া।

রাজধানীর চকবাজার থানায় করা এসব মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ক্রিসেন্ট ফুটওয়ার প্রতিষ্ঠানটি চামড়া রপ্তানির আড়ালে জালিয়াতি করে জনতা ব্যাংক থেকে বের করে নেয় তিন হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। এই টাকা ফেরত না দেয়ায় প্রতি প্রান্তিকেই স্থিতি বাড়ছে ঋণের। অর্থপাচারের দায়ে ভাই কাদের গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পলাতক আব্দুল আজিজ বর্তমানে দেশে না বিদেশে অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত নয় দুদক কিংবা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তবে আব্দুল আজিজসহ মামলার বাকি আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে বলে গণমাধ্যমকে জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম।

২০১১ সালে দেশের চলচ্চিত্র জগতে হঠাৎ করে আলোড়ন তোলে জাজ মাল্টিমিডিয়া। এরপর কলকাতা ও বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা বানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশের অনকেগুলো প্রেক্ষাগৃহ যন্ত্রপাতিসহ নানা সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে বিপুল ব্যয় করে সেগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন আব্দুল আজিজ। তার এসব অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এখন। আজিজের জাজ মাল্টিমিডিয়া তদন্তের আওতায় আসতে পারে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘দুদকের মামলায় আসামি পলাতক আছে। এ ক্ষেত্রে পুরো বিষটি তদন্তের স্বার্থে তার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। আসামির অন্যান্য যে ব্যবসা আছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও তদন্ত হতে পারে।মূলত গত ৩০ জানুয়ারি ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে গ্রেপ্তারের পর থেকে লাপাত্তা এম এ আজিজ।

এরই মাঝেই চলছে কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের প্রথম পর্ব ‘ধ্বংস পাহাড়’ অবলম্বনে নির্মীয়মান ইংরেজি ‘এমআর-৯’ আর বাংলা ‘মাসুদ রানা’ ছবিটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ২০২০ সালে। ৮৩ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবির শুটিং হওয়ার কথা বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও মরিশাসে। ছবিতে বলিউড ও হলিউডের বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ করবেন বলে জাজ মাল্টিমিডিয়ার দাবি।

ধারণা করা হচ্ছে, আবদুল আজিজ এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যেহেতু তিনি চ্যানেল আইয়ের কার্যক্রম সরাসরি দেখভাল করতে পারেননি না, তাই এই শো থেকে বাছাই ‘মাসুদ রানা’ নিয়ে তিনি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। ছবির অন্য প্রযোজক ও পরিচালককে পাঠিয়ে নিজের নির্দেশনামতো যাচাই করে নিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ