প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাশ্মীর ইস্যুতে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারে, হুঁশিয়ারি ইমরানের

আসিফুজ্জামান পৃথিল : কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঠিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কাতারের টেলিভিশন আলজাজিরাকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুতর সমস্যা। এটির সমাধান না হলে তা পরমাণু যুদ্ধে রুপ নিতে পারে। যা অবশ্যই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরবে। -ডন নিউজ।

আল জাজিরাকে ইমরান খান বলেন, এই সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের হাতে খুব কমই বিকল্প রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোসহ সবার দ্বারস্থ হয়েছে উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ যা করতে পারি তা হলে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে যাওয়া।’ ইমরান মনে করেন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রহিত করে ভারত সে সমস্যার সূত্রপাত করেছে তার সমাধানে আন্তর্জাতিক সস্প্রদায়কে যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা এই অন্যায় করেছে তারা বড় বাজার। সবাই ভারতকে শতকোটি লোকের বিশাল বাজার হিসেবে দেকে। কিন্তু তারা এটি বুঝছে না, তারা এখনই হস্তক্ষেপ না করলে এটি শুধু উপমহাদেশরই ক্ষতি করবে না, বৈশ্বিক বাণিজ্যেরও এতে বিশাল ক্ষতি হবে। সবাই হবে এর শিকার।’

ইমরানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তিনিও তার পররাষ্ট্রন্ত্রী শাহ মোম্মদ কুরাইশির মতো একটি আকস্মিক যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখেন কিনা। জবাবে ইমরান বলেন, ‘একদম। যেভাবে ভারত তার জনগণের উপর বর্ণবাদী আক্রমণ চালাচ্ছে এটি গণহত্যার চেয়ে কম না। নাৎসী জার্মানীর পর এ ধরণের আচরণ কেউ করেছে বলে আমার মনে হয়না। কাশ্মীরের ৮০ লাখ মুসলিম গত ৬ সপ্তাহ ধরে বন্দী জীবন যাপন করছে। এটি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে অগ্নিগর্ভ এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ভারত চাচ্ছে তাদের অন্যায় থেকে বৈশ্বিক দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে। কারণ তারা কাশ্মীরে গণহত্যা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে তারা দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চায়।

পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পাকিস্তানের নীতি নিয়ে ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। তবে আমি বলবো পাকিস্তান কখনই যুদ্ধ শুরু করবে না। আমি এই বিষয়ে পরিস্কার। আমি ইতিবাচক থাকতে চাই। আমি যুদ্ধ বিরোধী, কিন্তু আমি বলবো দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশ প্রচলিত পদ্ধতিতে যুদ্ধ শুরু করলেও তা শেষ হবে পরমাণু যুদ্ধ দিয়ে। তবে যেটাই হোক, পাকিস্তানিরা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করবে। আর যখন কোনো পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করে তখন নানান ধারাবাহিকতা শুরু হয়। আমি তাই জাতিসংঘের কাছে গিয়েছি। গিয়েছি সব আন্তর্জাতিক ফোরামে। কারণ আমরা জীবন বাজি রেখে লড়লে এর ফল ভালো হবে না।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ