প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লেখক হতে হলে ভেতর থেকে তাড়না থাকতে হয়, বললেন সমরেশ মজুমদার

রেন্টিনা চাকমা : ‘উপদেশ দিয়ে লেখক হওয়া যায় না। লেখক হতে হলে ভেতর থেকে তাড়না থাকতে হয়। একজন মা যখন সন্তানের জন্ম দেন তখন সেই সন্তানকে যেমন যত্ন না করলে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না, ঠিক তেমনি একজন লেখকের ভেতরে একটা উপলব্ধি তাড়িত না করলে তিনি লেখক হতে পারেন না’।

১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘরে আয়োজিত হয় ‘বই প্রকাশের গল্প’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার এসব কথা বলেন। এ আয়োজনে প্রকাশিত হয় তাঁর নতুন বই ‘অপরিচিত জীবনযাপন’ এবং বাদল সৈয়দের লেখা ‘জন্ম জয়’ বই দুটো। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ।

অনুষ্ঠানে লেখক হয়ে ওঠা গল্প বলার পাশাপাশি নিজের জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘কালবেলা, সাতকাহন, দীপাবলী’সহ বিভিন্ন উপন্যাসের বিষয়েও আলোকপাত করেন সমরেশ। অনুষ্ঠানের মধ্যমনি সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘আমার লেখা ‘কালবেলা’ বইটা ন্যায্যভাবে এক লাখ সাত হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। আর বিভিন্ন পত্রিকা এবং নানা জায়গা থেকে জেনেছি, বাংলাদেশে আড়াই লাখেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। ‘কালবেলা’ উপন্যাসের মাধবীলতাতো বিয়ে না করেও সন্তানের মা হয়। এ ধরনের বই লিখলেতো অশ্লীলতার অভিযোগে সেটি বাতিল করে দেয়ারই কথা। কিন্তু বাঙালি পাঠক মাধবীলতাকে কেন গ্রহণ করলো?

এর আগে আমি যখন ঢাকায় আসি তখন ঢাকা ক্লাবে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। তারা জানায়, তাদের নাম অনিমেষ এবং মাধবীলতা। আমি ভাবলাম, মজা করছে হয়তো। পরে তারা জানালো, এফিডেবিট করেই তারা নিজেদের নাম রেখেছে অনিমেষ আর মাধবীলতা। এরপর দর্শকদের কাছে সমরেশ জানতে চান, কেন অনিমেষ, মাধবীলতা চরিত্র এত জনপ্রিয় হলো? দর্শক সারি থেকে এসময় দুজন পাঠক সমরেশকে জানান, উপন্যাসটি কেন তাদের ভালো লেগেছে।

এছাড়াও তিনি লেখক বলেন, যে কোনো কিছুতেই আলাদা হতে না পারলে, কেউ গ্রহণ করবে না। কেউ ফিরেও তাকাবে না। একই রকম লিখলে তো হবে না। ভিন্ন কিছু লেখার চেষ্টা করতে হবে। আমি কখনো একই জিনিস বারবার লিখিনি, লিখতে চাই না। এমনকি আমি একই ধরনের বাক্যও দুইবার লিখি না। ভুল করে লিখে ফেললেও তা বদলে দেই। এই গুণ প্রত্যেক লেখকের থাকতে হবে এবং নতুন কিছু পদওয়ার তাগিদ থাকতে হবে।

বাংলা সাহিত্যের নন্দিত আরেক কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হূমায়ূন আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে সমরেশ বলেন, হূমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের রাজধানী কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। বাংলা সাহিত্যের রাজা রানী চলে এসেছে ঢাকায়। বাংলা সাহিত্যের রাজধানী আগে কলকাতা ছিল। এটা আমি তিরিশ বছর আগের কথা বলছি। কিন্তু গত তিরিশ বছরে আমরা নতুন কোন সুনীল, শীর্ষেন্দু, প্রফুল্ল রায়কে পাইনি। সেই আসা শুরু হয়েছে হূমায়ূন আহমেদের হাত ধরে। তিনি খুব বিনয়ের সঙ্গে জায়গাটি দখল করে নিলেন।

তিনি আরো বলেন, নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জনপ্রিয় এই সাহিত্যিক বলেন, লেখালেখি অত্যন্ত যন্ত্রণার একটি বিষয়। এই যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায় যখন বাংলাদেশের কোন বইয়ের দোকানে এসে দেখি ‘রাত তিনটে তোমাতে আমাতে’ বইয়ের নিচে লেখা সমরেশ মজুমদার। বইটি কেনার পর দেখি একটি অক্ষরও আমার নয়। কিন্তু বইয়ের পেছনে আমার ছবিটি দেয়া আছে। পাইরেসি চলুক সমস্যা নেই। কিন্তু যদি মূল বইটি ঠিক রেখে ছাপা হতো তাহলেও কষ্ট লাগত না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত