প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

`মমতার উচিৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া’ এনআরসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র সিং

রাশিদ রিয়াজ : বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র সিং সাংবাদিকদের বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন নিয়ে রাজনীতি করতে চান তবে তাঁর বাংলাদেশেই চলে যাওয়া উচিৎ। মমতার উচিৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। এনআরসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি করার অনুমতি দেবেন না তিনি। সুরেন্দ্র সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) করা হবে। এনআরসিতে যারা অবৈধ হবে চিহ্নিত হবেন, তাদেরকে হাতে দুই প্যাকেট করে খাবার ধরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার বিজেপির এই নেতা বলেন যে, এনআরসি পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ করা হবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বাংলাদেশিদের ধরে রাখতে চান তবে তাঁর চেষ্টা করা উচিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। সুরেন্দ্র সিং সাংবাদিকদের বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ দিন ঘনিয়ে আসছে। তিনি যদি বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন নিয়ে রাজনীতি করতে চান তবে তাঁর বাংলাদেশেই চলে যাওয়া উচিৎ। মুখ্যমন্ত্রীর যদি সাহস থেকে থাকে তাহলে যদি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান তাহলে ভালোই হবে।”

বিজেপির এই বিধায়ক আরও যোগ করেন, এনআরসি পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ করা হবে এবং যারা ভারতের নাগরিক হিসাবে যোগ্যতা অর্জন করবেন না তাদের সম্মানজনকভাবে নিজেদের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।এ সময় হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ থেকে উদাহরণ টেনে আনেন সুরেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, ‘লঙ্কার মানুষ হনুমানজিকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তবুও তিনি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন এবং লঙ্কা জয় করেছিলেন। একইভাবে যোগী আদিত্যনাথ এবং অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছেন এবং অনেকগুলো আসন জয় করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই লঙ্কার রাবণ। সেখানে রাম (বিজেপি সরকার) পা রেখেছেন। শিগগিরই পুরো পশ্চিমবঙ্গ জয় করবে বিজেপি।’

হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের থেকে উদাহরণ টেনে সুরেন্দ্র সিং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “লঙ্কার (শ্রীলঙ্কা) মানুষ হনুমান জিকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি তবে তিনি সেখানে চলে যেতে পেরেছিলেন। একইভাবে যোগী আদিত্যনাথ এবং অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছেন এবং আমরা ওখানে অনেকগুলি আসন পেয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন বাংলার রাজনৈতিক রানী (লঙ্কিনী)। সেখানে রাম নিজের পা রেখেছেন এবং এবার শীঘ্রই সরকারে পরিবর্তন আসবে।” “বাংলায় NRC কার্যকর করা হবে এবং সমস্ত বাংলাদেশিদের হাতে দু’টি প্যাকেট খাবার ধরিয়ে এবং শ্রদ্ধাপূর্বক তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে,” তিনি বলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসামে এনআরসি-র ব্যাপকভাবে বিরোধিতা করেছেন এবং বারেবারেই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি করার অনুমতি দেবেন না তিনি।

গত ৩১ আগস্ট (শনিবার) স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনলাইন ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে প্রকাশিত হয় আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি)। এ থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। বাদ পড়া ব্যক্তিদের ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ বাংলাদেশি দাবি করা হলেও ঢাকা বলছে, ভারতে বাংলাদেশের কোনও অবৈধ নাগরিক নেই। আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। হুমকির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

আগস্টের শেষে আসামের তালিকা প্রকাশের পর ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সমন্বয়কারী ও আসামের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু এবং তারা আমাদের সহায়তা করে আসছে। আমরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করলে তারা বরাবরই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই সংখ্যাটি বেশি বড় না, তবে এখন আমরা তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

হেমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে সে সময় বলেন, ‘এনআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি আবারও বলছি, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি জানি না এই বিষয়ে কে কী বলেছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানালে, আমরা জবাব দেব। সবমিলে আমি বলতে পারি, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। হতে পারে ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে তারা (মূলত বাংলাভাষীরা) আসামে স্থায়ী হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে নয়।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ