প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১২ লাখ হিন্দুর নাম বাদ পরায় এনআরসি নিয়ে বিপদে বিজেপি

আসিফুজ্জামান পৃথিল : আসামে এনআরসি করার সময় থেকেই বিজেপি দাবি করে আসছেলো এই তালিকা তথাকথিত বাংলাদেশী মুসলমান তাঁড়ানোর জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু তালিকা প্রকাশিত হয়ে যাবার পর তা বুমেরাং হয়ে পরেছে হিন্দুত্ববাদি দলটির জন্য। কারণ যে ১৯ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়েছেন তার ১২ লাখ হিন্দু!

নিখিল আসাম যুব বাঙালি ছাত্র ফেডারেশন নামে এক সংস্থা নিশ্চিত করে বলেছে এই তালিকার ১০ থেকে ১২ লাখ বাঙালি তথা বাংলাভাষী হিন্দু। আর দেড় থেকে দুই লাখ বাঙালি তথা বাংলাভাষী মুসলিম। বিজেপির শুরু থেকেই ধারণা ছিলো এই তালিকায় যাদের নাম থাকবে তারা মূলত সংখ্যালঘু বাংলাভাষী হবে। দলটি যেহেতু হিন্দুদের স্বার্থ আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা এটিকে নিজেদের সুযোগ বলে ধরে নিয়েছিলো। কিন্তু এনআরসি প্রকাশ পাবার পর সব হিসেব নিকেশ পাল্টে যায়। এই তালিকার অধিকাংশই হিন্দু হওয়ায় এটি এখন দলটির গলার কাঁটা। বিজেপি এখন বলছে তারা হিন্দুদের শরণার্থী স্বীকৃতি দিতে প্রয়োজনে আইন বদলাবে। কিন্তু এই দাবিও হালে পানি পাচ্ছে না। বাদ পরা বাকিদের মধ্যেও গোর্খাা ও আদিবাসিদের আধিক্য রয়েছে। বাংলাভাষী মুসলিম এতই কম যে বিজেপির বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর গুজব বাতাসে মিলিয়ে গেছে।
আসামের কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, বিজেপি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারণ, ১৯৭১ সালের আগে যারা আসামে এসেছেন, তারা কোনো ভাবেই নাগরিকত্ব আইনের সুবিধা পাবেন না। তাঁর কথায়, ‘নাগরিকত্ব বিলে ১৯৭১ সালের পরে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা রয়েছে। তার আগে যারা এসেছেন, তারা সুযোগ পাবেন না।’ সুস্মিতার দাবি, এনআরসি-তে বাদ পড়া বাঙালিদের একটি বড় অংশ হলফনামা দিয়ে জানিয়ে রেখেছেন যে তারা ১৯৭১-র আগে এ দেশে এসেছেন। ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়েই গেল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি করছে বিজেপি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত