প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাপাতির কোপে ফালাফালা কণ্ঠশিল্পী জেমির শরীর, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

মুসবা তিন্নি : তিনি কণ্ঠশিল্পী। তার সুরের মূর্চ্ছণায় লাখো হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের হিল্লোল। নিজস্ব গায়কী আর স্বতন্ত্র উপস্থাপন শৈলীতে নিজেকে অনেকের মধ্য থেকে আলাদা করে নিয়েছেন ইতিমধ্যেই। সংগীত জগতের সম্ভাবনাময় মায়াবি মুখ জেমি পারভীন। সপ্রতিভ এই আলোক শিখা পুরোপুরি জ্বলে ওঠার আগেই যেন নিভে যাচ্ছে দপ করে। তার কন্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চায় সন্ত্রাসীদের চাপাতির কোপ। নিজের নিরাপদ গৃহেই অতর্কিত হামলায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ফালা ফালা করেছে জেমির শরীর। হাতে, পায়ে, পেটে, পিঠে-বাদ নেই শরীরের কোনো স্থান। হার্মাদ জলদস্যুদেরও হার মানানো সে এক অবিশ্বাস্য নৃশংসতা। দৈনিক ইনকিলাব

ঘটনাটি গত ১৮ আগস্ট রাতে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া শহরের পশ্চিমপাড়ায়, জেমি পারভীনের স্বামীর বাড়িতে। ঈদ এবং শোক দিবস পালন করে ওইদিনই জেমি ঢাকা থেকে উল্লাপাড়া যায়। রাতে একাকী ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। হঠাৎ কলিং বেজে ওঠে। দরজা খোলার সাথে সাথে ঘরে ঢোকে ৫/৬ সন্ত্রাসী। সবার শরীরে রেইনকোট। হাতে চাপাতি, রাম দা, চায়নিজ কুড়াল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা স্কচটেপ দিয়ে জেমির মুখ আটকে দেয়। এরপরই অশ্রাব্য গালাগাল, সঙ্গে এলোপাতাড়ি কোপ। জবাই করার গরুর মতোই ফিনকী দিয়ে বেরোয় রক্ত। কয়েক মিনিটের মিশন। মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা ড্রয়িং রুমে ফেলে যায়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা জিপার খুলে প্রশ্রাব করে দেয় জেমির মুখে। নিচ তলায়ই ভাড়া থাকেন সিরাজগঞ্জ-পাবনা মহাসড়কে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য। তারা কেউ টের পাননি। পরে জেমিকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট জেমি পারভীনের স্বামী মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় মামলা (নং-৪ (৮) ১৯, তারিখ ১৯/০৮/২০১৯ইং) দায়ের করেন। তাতে আসামি করা হয় জেমির চাচাতো ভাই রতন (৪৫), রূহুল আমিন (৪০), মো. মানিক (৪৬), মো. বাবুল (৪২) কে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঘটে যাওয়া এত বড় ঘটনা কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। কারণ হিসেবে জানা যায়, সন্ত্রাসীরা চরমপন্থি একটি গ্রুপের সদস্য। তাদের বিষয়ে মুখ খোলার সাহস কারো নেই। অথচ কোনো সিসি ফুটেজ থাকলে এতোদিনে হয়তো জেমিকে কোপানোর দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যেতো সিলেটের খাদিজা, ঢাকার বিশ্বজিৎ কিংবা বরগুনার রিফাতের মতো। তবে জেনির স্বজনরা কিছু ছবি তুলে রেখেছেন ভীবৎষতার কারণে যা প্রকাশ অযোগ্য।

হাসাপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জেমি জানান, চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে শাহজাদপুর থানাধীন মাকরকোলা বাজারঘাটি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওরা ইতিমধ্যেই জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের অনেক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। বাকী সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে দিয়ে দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। রাজী না হওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা। এটিই প্রথম নয়। এর আগে আরো চারবার তার ওপর নৃশংস হামলা হয়। সিরাজগঞ্জ, ঢাকা এবং গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালানো হয়। এ নিয়ে থানায় মামলা ছাড়াও একাধিকবার সালিশও হয়। কিন্তু কোন কিছুতেই ওদের দমন করা যায়নি। এমনকি গত ২৫ জুলাই শাহজাদপুরের গ্রামের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে জখম ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তে মামলা প্রত্যাহার ও সমঝোতা হয়। পরে সমঝোতার শর্তও তারা মানেনি।

জেমি জানান, তারা ১০ বোন। তিনি নবম। সবার ছোট এক মাত্র ভাই। দুই সন্তানের জননী জেমি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন। কণ্ঠশিল্পী হবার সুবাদে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে পরিচয় রয়েছে। সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও তিনি ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের অনুসারী। পরিবারের পক্ষে পৈত্রিক সম্পত্তি সর্বশক্তি দিয়ে আগলে রাখতে চান। এ কারণে তিনিই সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট।

এদিকে ঘটনার পর প্রায় এক মাস হতে চললেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে উল্লাহপাড়া থানা পুলিশ। জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লাপাড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। বাদী মোহাম্মদ আলী সাহেবকে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত