প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রদলের কাউন্সিল: কারা আসছেন নেতৃত্বে?

শিমুল মাহমুদ : ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিল। তফসিল অনুযায়ী, আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা। তাই শেষ মুহূর্ত টুকুও কাজে লাগাতে তৃণমূলের ছুটে চলেছে প্রার্থীদের অনেকেই। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় উজ্জীবিত ছাত্রদলের তৃণমূলের কাউন্সিলররাও। তবে কারা আসছেন নেতৃত্বে? এমন প্রশ্ন তৃণমূল থেকে দলের উচ্চ পর্যায়ে।

এরই মধ্যে প্রার্থীদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মূল্যায়ন করা শুরু করেছেন কাউন্সিলররা। রাজপথে কোনো প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর কে নিয়েছেন।

এবার সভাপতি পদে প্রার্থী- ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এস এম সাজিদ হাসান বাবু, এবিএম মাহমুদ আলম সরদার ও মামুন বিল্লাহ খান।
সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন- মোস্তাফিজুর রহমান, মো. জুয়েল হাওলাদার (সাইফ মাহমুদ জুয়েল), মো. আমিনুর রহমান আমিন, শেখ আবু তাহের, শাহ নাওয়াজ, মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল, মো. হাসান (তানজিল হাসান), মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মশিউর রহমান রনি, সোহেল রানা, কাজী মাজহারুল ইসলাম।

সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন। ওয়ান ইলেভেন থেকে সক্রিয় এ নেতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে। ২০টির অধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলনে সক্রিয় থাকার জন্য সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের কাছে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। কারা নির্যাতিত এ নেতাকে নিয়ে আশাবাদী ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতাকর্মী।
সভাপতি পদে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ আলোচনায় থাকলেও আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাকে নিয়ে তৃণমূলে অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান সারাদেশে কাউন্সিলদের কাছে পৌঁছানোর জটিল কাজটি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ওয়ান ইলেভেনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বলয়-ভিত্তিক প্রার্থী হওয়ায় আলোচনায়ও আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি এসএম সাজিদ হাসান বাবু রাজপথের সক্রিয় নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিতি পেয়েছেন।

সম্পাদক পদে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান অনেকটা সুবিধাজনক স্থানে আছেন পরিচিতির দিক থেকে। ডাকসুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে সারাদেশের কাউন্সিলররা চেনেন।

গতকাল মুঠো ফোনে কথা হয় মোস্তাফিজুর এর সাথে, এসময় তিনি জানান, তৃণমূল থেকে বেশ সারা পাচ্ছেন তিনি। তাছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দলের সিনিয়র নেতারা তার ত্যাগী, সাহসী,দীর্ঘ সময় দলের আন্দোলন সংগ্রামে উপস্থিতি বিবেচনা করে তাকে ডাকসুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সুযোগ করে দিয়েছিলো। সে হিসেবে তিনি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করেন।

অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডালিয়া রহমান একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়ায় সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। এই দুজন সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডালিয়া রহমান বলেন, যদি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সারা না পেতাম তাহলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতাম না। অবশ্যই সবার কাছ থেকে ভালো সারা পাচ্ছি। আশা করি, খুব ভালো ফলাফল হবে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির বলেন, ছাত্রজীবনে রাজনীতি করতে গিয়ে পুলিশি হয়রারি হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি অনেকবার। ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে ৩৮ টি মামলা হয়েছে। সাভার আশুলিয়া, দারুসসালাম ও পল্টন থানার এসব মামলায় কয়েকবার কারাবরণও করেছি। ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রায়েরবাজার থেকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়। তিনদিন অজ্ঞাত স্থানে রাখার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি ডিবি মিডিয়া সেন্টারে হাজির করা হয়। আশা করি, কাউন্সিলররা এসব মূল্যায়ন করবেন।

আগামী শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বা গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সংগঠনটির ১০ সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা কাউন্সিলে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, ঢাকা বিভাগের ২৯ শাখায় ১৩৮, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮, কুমিল্লা বিভাগের ৬ শাখায় ৩০, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২, সিলেট বিভাগের ৭ শাখায় ৩৫, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩ এবং ফরিদপুর বিভাগের ৬ শাখায় ৩০ ভোট রয়েছে। সম্পাদনা : মুসবা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত