প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই দেশে নারীর হয়রানিকে কেউ হয়রানি বলে মনে করে না

মুনমুন শারমিন শামস : ঘটনা জেনে অবাক হয়ে গেলাম। অবশ্য আমি বেকুব বলেই এখনো অবাক হই। না হলে এ দেশে অফিসে আদালতে যৌন হয়রানি নিয়া অবাক হওয়ার কী আছে, এটাই বুঝি না! তবুও আমি অবাকই। কারণ ঘটনাস্থল হইলো একটা বিশেষ এলিট এলাকা। সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৭তম বিসিএস দিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন মঞ্জু মনোয়ারা। মেধাবী মঞ্জু চাকরিতে উন্নতিও করছিলেন। কিন্তু যেহেতু এইডা বাংলাদেশ এবং মঞ্জু একজন বাংলাদেশি নারী, তাই তার চাকুরিস্থল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো উচ্চতম স্থান হওয়ার পরও আর দশটা মেয়ের মতোই তাকেও চূড়ান্ত রকম যৌন হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাগুলা এমনই ভয়াবহ যে, কিছুক্ষণ হা কইরা ছিলাম! পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঞ্জুর সহকর্মী পুরুষ নূরে আলম নামের একজন কাউন্সিলর তাকে যতো ধরণের হয়রানি সম্ভব সবই করে আসছে। প্রথমেই সেক্সুয়ালি এবিউজ করার চেষ্টা। কর্মস্থলেই অনেকের সামনে মঞ্জুকে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকে নূরে আলম। এমনকি মঞ্জুর অভিযোগ, প্রেগনেন্ট অবস্থায় নূরে আলম নামের লোকটি তাকে ফিজিক্যালি অ্যাসল্ট করার হুমকিও দেয় এবং সেটাও সহকর্মীদের সামনে। হুম, মঞ্জু অভিযোগ জানিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু যেহেতু এইডা বঙ্গদেশ, আর এই দেশে নারীর হয়রানিকে কেউ হয়রানি বলে মনে করে না, তাই মন্ত্রণালয়ের চোখে নূরে আলম অবোধ শিশু হিসেবে প্রমাণিত হইসে। আর উল্টো শাস্তি পাইসেন মঞ্জু।

তারে ভারতের উপ হাইকমিশনে বদলি করা হইসে। ঘটনা এখানেই শেষ না। নূরে আলমের সহযোগীরা ক্রমাগত মঞ্জুকে নির্যাতন করতে থাকেন। তারা মঞ্জুকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে মঞ্জুর মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উঠে আসে। তদন্ত কমিটি উল্টো জানায়, মঞ্জু শারীরিক, মানসিক কিংবা স্ত্রীরোগ- কোনোকিছুতেই আক্রান্ত নন। সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু যেহেতু এইটা বঙ্গদেশ আর মঞ্জু একজন নারী আর নূরে আলম পুরুষ, তাই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী কইলো তাতে কিছুই যায় আসে না। ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে তৈরি চিকিৎসা বোর্ডের সুপারিশ আমলে নেয়নি মন্ত্রণালয়। তারা মঞ্জুকে চাকরি থেকে অব্যহতির উদ্যোগ নেয়। এদিকে মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতনবিরোধী যে সেলটি ছিলো, সেখানকার সাবেক প্রধান ড. ফারজানা রাবিন জানান, মঞ্জুকে মানসিকভাবে অসুস্থ ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সুস্থ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তদন্ত কাজ যখন শেষ তখনই সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হয় তদন্ত করার। কী দারুণ না? আরও দারুণ খবরটা এখন দিই। একজন নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং ষড়যন্ত্রমূলক আচরণের পুরস্কার হিসেবে নূরে আলম এখন প্রমোশন পেয়েছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে মিনিস্টার হয়েছে সে। আর মঞ্জু মনোয়ারার দিন কাটছে এই আশঙ্কায়, কবে তাকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হবে! সংবাদ সূত্র- জিটিভি । ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত