প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনন্দ বিমানে, দুঃখ গণভবনে

মোস্তফা ফিরোজ : বিভিন্ন অনলাইন নিউজে খবর দেখলাম, প্রায় একই সময়ে দুই রকমের খবর। তাতে দেখা গেলো ছাত্রলীগের সভাপতি শোভনকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিপুল বিদায় সম্বর্ধনা। অন্যটি হলো, প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে না পেরে গণভবন থেকে চলে আসেন শোভন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী। কেমন হলো বিষয়টা? ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন যে এতো জনপ্রিয় তা আগে বুঝতে পারিনি। কেননা, ডাকসুর ভোটে তিনি হেরে যান। তারপরও সিলেট বিমান বন্দরে তাকে ঘিরে বাঁধভাঙা আনন্দ উল্লাসের জোয়ার। সাধারণত বিদায়ের সময় সবাই ব্যথিত থাকে।

কিন্তু সেলফিতে দেখা গেলো আনন্দ উল্লাসের মাত্রা এতোই ছিলো যে কোন বাঁধাই তা রুখতে পারেনি। তাই শতশত নেতা কর্মী বিমান বন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙে টারমাক এরিয়ায় থাকা বিমানের দরজায় গিয়ে প্রিয় নেতাকে বিদায় জানান। ঠিক এই সময়ে চট্রগ্রামে আমরা দেখলাম খেলার মাঠে ঢুকে পড়ে সাকিবকে ফুল দিতে গিয়ে এক সাকিব ভক্ত এখন জেল খাটছেন। এটাও নিরাপত্তা জনিত অপরাধ। অবশ্য এর সাথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা জনিত অপরাধের তুলনা করাটাও আর একটি অপরাধ। তাই আমি এই কথাটা প্রত্যাহার করে নিলাম। আমি যেটা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে বিমান বন্দরে নেতাকে ঘিরে এমন উচ্ছাসের বন্যা এখন সাধারণত দেখা যায় না। বিদায় কালে তো প্রশ্নই ওঠে না। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফেরেন তখন এমন উচ্ছ্বাসের বন্যা দেখেছি। তার কন্যা শেখ হাসিনা যখন ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তখনও বিমান বন্দরে এমনটা দেখেছি। এসব ঘটনার রাজনৈতিক ইতিহাস ঐতিহ্য আছে। সর্বশেষ মনে আছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এরশাদের পতনের পর দেশে ফেরেন তখন তাকে সম্বর্ধনার উচ্ছ্বাস ছিলো বিমান বন্দরের টারমাক পর্যন্ত বিস্তৃত।

তখন অবশ্য এটা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রুটে নেতাকে বিদায় জানাতে টারমাকে শতশত কর্মীর বাঁধা ভাঙা জোয়ার দেখিনি। এটাই হয়তো প্রথম। এতে নিরাপত্তার বিষয়টি আমার কাছে ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি ভাবছি জনপ্রিয় নেতার অভাব রয়েছে দেশে। এখন বিভিন্ন দলে কতো নেতা নেত্রীই তো আছেন, কিন্তু কই এমনতো উচ্ছ্বাস দেখি না। ছাত্রনেতা শোভন আগামী দিনে যে বড় মাপের নেতা হবেন তার একটা হিসেব পাওয়া গেলো সিলেটে। কিন্তু এর বিপরীত খবরটির এমন হলো কেন? তাতে দেখা গেলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্ধ হয়ে দলের এক সভায় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন। সেখানে বলা হয়, শোভন ও রব্বানীর নেতৃত্ব নিয়ে দলের নেতারা নাখোশ। তাদের বিরুদ্ধে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, সিনিয়র নেতাদের পরে সভায় যোগ দেয়া, আর্থিক ও অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার নানা অভিযোগ ও সমালোচনা করা হয়। এই প্রেক্ষিতে গণভবনে সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য বসে থাকলেও দেখা পাননি। বরং সিনিয়র নেতারা তাদের দুজনকে গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন। তারাও আর উপায় না দেখে মনঃক্ষুন্ন হয়ে চলে আসেন। আমি এই ঘটনার সাথে বিমান বন্দরে আগের রাজকীয় বিদায় সম্বর্ধনার হিসেব মেলাতে পারলাম না। এমন জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের বিষয়ে দল কেন এমন আচরণ করছে? এরাইতো দলের ও দেশের ভবিষ্যৎ। আসলে রাজনীতির বিশ্লেষণ করা আমার মতো নগণ্য মানুষের কাজ না। এটা বুঝতে আরো মেধা ও জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। যা আমার নেই। স্যরি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত