প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী বছর ৩লাখের বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বিশেষজ্ঞদের

শেখ নাঈমা জাবীন : এবছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই করলেও আগামি বছর এর সংখ্যা হবে ৫ গুন, আশংকা এমনই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম বৃষ্টিপাত, আদ্রতা ও উষ্ণ আবহাওয়া এডিস মশাকে বেপোরোয়া করে তুলছে। তবে কামান না দাগিয়ে খুব সাধারণ কিছু পদক্ষেপেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটিএন, ০১:০০

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এবার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।এখন শরতের নীলাকাশেও কালো মেঘের আনাগোনা। কখনো কখনো বৃষ্টিও হচ্ছে। ঘন ঘন বৃষ্টিপাত আর বাতাসের খুব বেশি আদ্রতা এডিস মশার বংশ বিস্তারে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।

তাই গত দু বছরের তুলনায় এবছর রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যাও। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই রোগীর সংখ্যা হাজারের মধ্যেই ওঠা-নামা করছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। ডেঙ্গুর আতঙ্ক এখন বছর জুড়েই।

আইইডিসিআর এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ছিলো ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালে তার চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আমাদের বসে থাকলে চলবে না। রোগত্বাত্তিক ও কীটতাত্বিক উভয় বিষয় নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।

এডিস মশা নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষণা করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং কীটতত্ববিদ হুমায়ুন রেজা খান জানালেন, এডিস মশার বংশ বিস্তারে উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় সামনের বছর আরো খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, ট্রান্স ওভারিয়ান ট্রান্সমিশন অর্থাৎ এরা ডিমের মাধ্যমে এই জীবানুগুলো ছড়াচ্ছে। তারা একটি মশা থেকে ১০ টি জেনারেশনে ৮ কোটির উপরে ডিম পাড়ছে। মে মাস থেকে যদি বৃষ্টিপাত শুরু হয় তাহলে এদের ৫টি থেকে ৬টি জেনারেশন হবে। যদি বৃষ্টিপাত আর্লি শুরু হয়ে যায়, যেটা এবার হয়েছে তাহলে আমি আশংকিত।আমরা যদি ব্যবস্থা না নেই তাহলে গত বছর ছিলো ২০ হাজার রোগী, এবার হয়েছে লাখের কাছাকাছি। ফাইভ টাইম্স যদি ধরি, নেক্সট ইয়ারে হবে ৩ লাখেরও উপরে।

দুই বিশেষজ্ঞ বললেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রনে শুধু পিক টাইমে মশা নিধন কর্মসূচি চালিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। বরং খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর সবচেয়ে বেশি জরুরি, বছরব্যাপী সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবি ও জনসম্পৃক্ত সমন্বিত উদ্যোগ।
ডা. মোশতাক হোসেন আরো বলেন, কীটনাশক প্রয়োগ করে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা এটি একটি আপদকালীন ব্যবস্থা। জনগণ যদি বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিকভাবে এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে আসে তাহলে নিশ্চয়ই আমরা এটির সমাধান করাতে পারবো।

হুমায়ুন রেজা খান আরো বলেন, যেখানে ডিম থাকে সেখানে গরম পানি দিয়ে দিলে তারা মরে যাবে। অথবা কনটেইনারসহ সেগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে। একবছরে না হলেও দুই-তিন বা ম্যাক্সিমাম পাঁচ বছর অন্তর অন্তর কীটনাশক চেঞ্জ করতে হবে। না হলে রেজিস্টেন্ট ডেভেলপ করবে। যতগুলো জেলা শহর ও উপজেলা শহরের প্রত্যেককে এবং প্রত্যেক কর্তৃপক্ষকে মাঠে নামতে হবে। নয়তো সিরিয়াস ভাবে এটি দিনকে দিন বাড়বে। কমার কোনো নিশ্চয়তা নাই। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত