প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ খেয়া নৌকা পারাপার

যায়েদ হোসেন: রাজধানীর বুড়িগঙ্গায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার চিত্র বদলে গেছে। সদরঘাটে যাওয়ার পথ জনসন রোডের দুই পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এখন আর চোখে পড়বে না।কিন্তু অবৈধ খেয়া নৌকা পারাপারে তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। যার চিত্র এখনো বদলায়নি।নদী পারাপারে নৌকাডুবিতে এখন আতঙ্কের অন্য নাম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।

জলপথে দক্ষিণাঞ্চল-যাত্রায় রাজধানীর একমাত্র রুট সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে ৪৫টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে থাকে। আর এ টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ১৩ টি অবৈধ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত নৌকা যাত্রী পরিবহন করে। লঞ্চের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট নৌকায় করে নদী পাড়ি দেয়ার সময় প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় বছরে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।তবুও বন্ধ হচ্ছে না ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার।এই ঘাট গুলোতে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা চলাচল করছে। এসব নৌকা কতজন যাত্রী বহন করতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তাই মাঝিরা তাদের ইচ্ছেমতো যাত্রী বোঝাই করে নদী পাড়ি দিচ্ছে।

সরেজমিনে সদরঘাটের খেয়াঘাট গুলোতে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি নৌকায় ৬-৭ জন যাত্রী নিয়ে চলন্ত লঞ্চের ফাঁক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। আবার বিভিন্ন গন্তব্য থেকে লঞ্চ এলেই ছোট ডিঙ্গি নৌকাগুলো আগে কে যাত্রী উঠাবে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে।শত শত নৌকা সিরিয়াল করে যাত্রী পার করছে। প্রতিটি খেয়া নৌকা পানি ছুঁই ছুঁই করে মানুষ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হচ্ছে। একটি নৌকার সঙ্গে আরেকটি মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে।লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে শতাধিক মানুষ।

১৭ আগস্ট বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে শাওন মোল্লা (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।

১৪ আগস্ট লঞ্চের ঢেউয়ের তোড়ে নৌকা থেকে পড়ে শাহজাহান নামে এক ব্যাবসায়ী পানিতে ডুবে মারা যায়।

২১ জুন এমভি পূবালী-৫ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকার যাত্রী মাদরাসাছাত্র মিশকাত (১২) ও তার বোন নুসরাত (৭) ডুবে মারা যায়।

৬ মার্চ এমভি সুরভী-৭ এর ধাক্কায় নৌকা ডুবে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়।

এর আগে, ২৫ জানুয়ারি মা ও দুই মেয়ে এমভি পারাবাত লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় ডুবে যান।

প্রতিটি নৌকা থেকে দিনে ১৬০-১৭০ টাকা করে খাস আদায় করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটি’র বন্দর শাখার কর্মকর্তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে এই ঘাটগুলো থেকে খাস আদায়ের নামে প্রতিদিন লাখ টাকা উত্তোলন করছে ।

লঞ্চ মাস্টার তাকবির জানান,লঞ্চ আসার আগে থেকেই মাইকে ছোট নৌকাগুলোকে লঞ্চের আশেপাশে আসতে নিষেধ করা হয়।কিন্তু মাঝিরা নিষেধ না শুনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

প্রতিদিন এ খেয়া নৌকা দিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ পার হয়।খেয়া পারাপারের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কষ্ট হয়। লঞ্চ, কার্গো, ট্রলারের সাথে ধাক্কা লেগে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের।

কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, ব্রীজঘাট থেকে ওয়াইজঘাট যেতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা কিন্তু মাঝিরা মাঝে মাঝে ১০ আদায় করে থাকে।আবার যাত্রী নিয়ে তড়িঘড়ি করে নদী পার হওয়ার সময় তারা চলন্ত লঞ্চ,ট্রলার,বালুবাহী বাল্কহেড তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে এসবের সামনে দিয়ে নৌকা নিয়ে যায়।নিষেধ করার পরেও মাঝিরা আমাদের কথা শোনে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরুণা বলেন, একটি নৌকায় ৫-৬ বসলেই পানি ছুঁই ছুঁই করে।এর মধ্যে মাঝিরা বেশি টাকার আশায় ৮-৯ জন কখনো ১০পর্যন্ত নিয়ে থাকে।যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে,মনে শঙ্কা নিয়েই নদী পার হতে হয় আমাদের।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রী পারাপারের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।সদরঘাট এলাকার রাস্তা ও নদীর তীরের জায়গাগুলো দখল মুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত