প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামো চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর

আসাদুজ্জামান সম্রাট : সরকারের অন্যতম প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের যথাযথ তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামো চেয়েছে। এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুমোদন হলে অধিদপ্তরের জনবল দাড়াবে প্রায় ১৬ হাজারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এক সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে জনবল ছিল প্রায় ২০ হাজার। ওয়ার্কচার্জড, দৈনিক ভিত্তিক ও ভাউচার ভিত্তিক এসব জনবলের কারো অবসর ও মৃত্যুর কারণে শূন্য হলে ওই পদও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে এর জনবল কমে দাড়ায় প্রায় সাত হাজারে। ২০১৮ সালে নতুন ৪৭৪টি পদ সৃজন হলেও তা বেশিরভাগই ছিল ইএম বিভাগের।

বিদ্যমান উন্নয়ন চাহিদার প্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন জনবল কাঠামো তৈরি করে তা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের উদ্যোগে এটি অনুমোদন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বুধবার জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন নতুন জনবল কাঠামোর প্রস্তাবের যৌক্তিকতাগুলো তুলে ধরেন। এ সময়ে বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শওকত উল্লা প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ছিলেন।

নতুন প্রস্তাবে ঢাকায় আরো কয়েকটি ডিভিশন ও সার্কেল ছাড়াও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জোন, সার্কেল, ডিভিশন ও সবা ডিভিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে একজন সহকারী প্রকৌশলী এবং ২ উপজেলা মিলিয়ে একটি সাব ডিভিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থানা ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও সরকারের সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন করে থাকে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ জন্যই মাঠ পর্যায়ে জনবল কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শওকত উল্লাহ বলেন, সারা বাংলাদেশে যেখানে রাজউক, সিডিএ, কেডিএ নেই সেসব জায়গায় গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের ডিজাইন ভেটিংয়ের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরে আসে। আমাদের বিদ্যমান ডিজাইন ইউনিট আমাদের নিজস্ব চাহিদাই পূরণ করতে পারছে না। ফলে এ ইউনিট সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতোদিন আমরা ৫/৬ তলা ভবন নির্মাণ করতাম। এখন ২০ তলা ভবন নির্মাণ করছি। কিন্তু এর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য আলাদা কোনো ইউনিট নেই। আমরা এতোদিন যে পদ্ধতিতে এর লোড ম্যানেজমেন্ট করেছি তা যুগোপযোগী করতে অধিদপ্তরে আলাদা প্লাম্বিং ইউনিট জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় আধুনিক নির্মাণ শৈলীর জন্য একটি গ্লাস ডিজাইন ইউনিটেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি জানান, মাঝে কিছু পদ সৃষ্টি ছাড়া জনবল কাঠামো সেই ১৯৮৪ সালের এনাম কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রয়ে গেছে। এই জনবল দিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সার্ভিস দেয়া কঠিন।এখন প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান ও সুইপারের তীব্র সংকট রয়েছে। জনবল কাঠামো অনুমোদন না হলে অধিদপ্তরের অনেক কাজই থমকে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত