প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের চিন্তা-ভাবনা করছে আ.লীগ

রফিক আহমেদ : এবার বঞ্চিতদের গুরুত্বের সাথে মূল্যায়নের চিন্তা-ভাবনা করছে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এব্যাপারে দলের হাইকমান্ড আগামী কাউন্সিলে বঞ্চিতদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মতামত দিয়েছে।দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। গণভবন ও দলের হাইকমান্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিল।এ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের প্রধান লক্ষ্য বিগত দিনে এলাকায় জনপ্রিয়-সৎ, দক্ষ ও মার্জিত থাকা মনোনয়ন চেয়ে পাননি, সরকারের লাভজনক কোনো পদে বসেননি এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরও কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা ভোগ করেননি এমন নেতাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দলের জন্য ত্যাগ-তিতীক্ষা থাকা ওইসব নেতাকর্মীদের এবার মূল্যায়নের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

দলীয়প্রধানের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।দল ও সরকার ত্যাগীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিলে অভিনন্দন ও স্বাধুবাদ জানাবে মাঠ পর্যায়ে প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। তাদের মতে, দুরদিনে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং নেতকর্মীদের বিপদে আপদে ছুটে গেছেন এমন নেতাদেও খোঁজে এনে মূল্যায়ন করলে আগামী দিনে দল আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী ও মজবুত হবে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের আগামী কমিটিতেও বেশির ভাগ পদে যাদের স্থান দেয়া হবে তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না। দলকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে মন্ত্রী-এমপি নন এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে পদোন্নতি পেতে পারেন বিগত জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান; দুই সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বিগত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনেরও পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী পদোন্নতি পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হতে পারেন।কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য রিয়াজুল কবির কাউছারকে সম্পাদক মণ্ডলীতে দেখা যেতে পারে। এছাড়াও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে স্থান দেয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনের মনোনয়ন চেয়েও দলের স্বার্থে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এর জন্য সরে দাঁড়ান ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।ওই সময় তিনি শেষ্ঠ যুব নেতা ও সংগঠক হিসেবে নির্বাচিত হন।জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও তিনি সবচেয়ে বেশি। একইভাবে ওয়াকাস পাটিকে ছাড় দেন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল, জাতীয় পাটির কাজী ফিরোজ রশীদকে ছাড় দেন ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু এবং মহাজোটকে ছাড় দেন নারায়নগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত ও নিজ দলীয়প্রার্থীক ছাড় দিয়ে সরে দাঁড়ান নেত্রকোনা-৫ আসনের তুহিন আহাম্মদ খান। এই ধরনের ২৫জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাথে কথা হয়। তারা সবাই দলের প্রয়োজনে যেকোনো ছাড় দিতে বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে দলের উচ্চ শিক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়ে সরকার ও দল যে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তাতে স্বাগত জানাবেন ওইসব নেতারা। এসব নেতাদের গত ৩-৪ বার দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে দলের স্বার্থে এবং প্রয়োজনে বার বারই ছাড় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে প্রতিবারই তরুণদের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়। এবারও আমরা নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি করব। কমিটিতে স্থান দেয়ার ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতা বিবেচনায় নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দলের ২১তম কাউন্সিলে এবার তরুণদের কমিটিতে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাদের দিয়েই আগামী কমিটি গঠন হবে।যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন নেতাদের সকলেরই বয়স হয়ে গেছে।এখন নেত্রী (শেখ হাসিনা) চান আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী নেতৃত্ব বিকাশ হোক।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুসারে, আগামী অক্টোবরে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরের আগে আওয়ামী লীগের পরবর্তী জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা কম। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসবেন এর একটা প্রতিফলন থাকবে এই কমিটিতে। তরুণ ত্যাগী নেতাদের অনেককেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হবে।

সম্পাদনা : সারোয়ার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত