প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বালিশ ও পর্দা কেনায় দুর্নীতি: কাদের বললেন ছিঁচকে কাজ, রাজ্জাক বললেন দিনে-দুপুরে ডাকাতি

সারোয়ার জাহান : গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পর্দা ক্রয়ে দুর্নীতি ছিঁচকে কাজ। কিন্তু মঙ্গলবার (১০সেপ্টেম্বর) বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বালিশ ও পর্দার দুর্নীতি দিনে-দুপুরে ডাকাতি।এই দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগকে চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, এ ধরনের ছিঁচকে কাজ যারা করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কোনো এমপি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নন। এখানে তো হাওয়া ভবনের মতো লুটপাটের বিষয় নেই। যারা এমন অভিযোগ করে, তারা তো দেশটাকেই লুটপাট করে খেয়েছে। এখন সরকারের কোনো বিকল্প ‘সেন্টার’ নেই। লুটপাটের কোনো ভবন এই সরকারের আমলে নেই, এটা আমি দাবি করে বলতে পারি। বালিশ আর পর্দার সঙ্গে হাওয়া ভবনের লুটপাটের বিষয়কে মেলালে চলবে না।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের সেই পর্দা। ছবি সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরতদের জন্য আবাসিক এলাকায় আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।সম্প্রতি একটি সরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একটি পর্দা কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকায়।

এসব দুর্নীতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে আব্দুর রাজ্জাক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এগুলো হলো একদম দিনে-দুপুরে ডাকাতি কিংবা সিঁদ কেটে চুরি করা ছাড়া কিছুই না।একজন সরকারি কর্মকর্তার এতো বড় সাহস কোথা থেকে আসে!’ এতে সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ভীষণ উদ্বিগ্ন।আমাদের যত অর্জন সাফল্য সবই ম্লান হয়ে যাচ্ছে, সব ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে।বরং কালিমা লেপন হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, এগুলো ‘ছোটখাটো’ কোন বিষয় নয়। ‘ছোটখাটো বিষয় হবে কেন? যারা এগুলো করতে পারে তারা বড়ও করতে পারে,’

রাজনৈতিক সদিচ্ছা কতটা?

বালিশ ক্রয়ে দুর্নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল।

দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের মধ্যে ‘দ্বিমুখী চিত্র’ প্রকাশ পাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বললেও যারা এটি বাস্তবায়ন করবেন, তাদের একটি অংশের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করার মানসিকতা দেখা যায়।
‘এ ধরণের বক্তব্য যখন আসে তখন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যারা জড়িত, বিচারিক কিংবা তদন্ত প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদের কাছে এক ধরণের রং মেসেজ (ভুল বার্তা) পৌঁছায়,’

তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই।দুর্নীতি কমানোর জন্য এরই মধ্যে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

বিবিসি বাংলা ও যুগান্তর অবলম্বনে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত