প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক :  ৯ দফা দাবি আদায়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হঠাৎ করে ধর্মঘটের ডাক দেয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্যপরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। রোববার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে গণপরিবহন শূন্য হয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরী। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় অফিসে যাওয়া কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে। প্রায় ১০ ঘণ্টা চলা ধর্মঘটে জনভোগান্তির পর বিকেল ৪টায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সমকাল

বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ বৈঠকে মেয়রের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সরকারদলীয় নেতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। তিনি সংগঠনটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তবে ৪টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরের রাস্তায় গণপরিবহন নামেনি। এদিকে, ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়াও পুরো জেলা ও বিভাগের কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলাসহ ১৪ জেলায় বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সার্কিট হাউসে বৈঠক শেষে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, চসিক মেয়র আমাদের দাবিগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অবহিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। ১৫ দিন পর বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে মেয়র আমাদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।

ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছেন কেন জানতে চাইলে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আমরা ৯ দফা দাবি মানতে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কেউ আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ কিংবা আলাপ করেনি। আমাদের ধর্মঘট প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নয়। প্রশাসনকে আমরা চিঠি দিয়েছি, আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের পাত্তাই দেয়নি। তাই আমরা ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আমরা জনগণের বিপক্ষে নই।

নিজেদের দাবি আদায়ে হঠাৎ করে ডাক দেওয়া ধর্মঘটে চট্টগ্রামের ১৪ জেলার সঙ্গে কার্যত অচল হয়ে যায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের দাবি আদায়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভোগান্তিতে ফেলা কখনও যৌক্তিক আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই।

জনভোগান্তির নেপথ্যে থাকা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। সে সময় তিনি সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট রাতে ‘মদ্যপ’ অবস্থায় নগরের আউটার স্টেডিয়াম-সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাবে ঝগড়ার জেরে যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদিনের পায়ে গুলি করে আলোচনায় আসেন মঞ্জু। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুলিশ আটকও করেছিল তাকে।

রাঙামাটিতে ভোগান্তিতে যাত্রী ও পর্যটকরা: রাঙামাটি অফিস জানায়, অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় রাঙামাটিতে ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটকসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা। সকাল থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-চট্টগ্রামসহ অভ্যন্তরীণ রুটে সব যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। তবে রাঙামাটি শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

যাত্রী ও পর্যটকরা অভিযোগ করেন, আগাম ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট ডাকায় বাস স্টেশনে গিয়ে তারা আটকা পড়েছেন। আগে থেকে জানানো হলে এই ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ