প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে বিআইডব্লিউটিসি আইন

আনিস তপন : ৪৫ কোটি টাকার মূলধন বৃদ্ধি করে পাঁচশত কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আইন, ২০১৯ প্রস্তাব দিয়ে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে পারে।

বিআইডব্লিউটিসির আইন শাখার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এখন করপোরেশন ১৯৭২ সালের আইনে পরিচালিত হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে করপোরেশনকে ৫ কোটি টাকার মূলধন দেয়া হয়েছিল। তবে এরপর ১৯৭৯ সালে এক অর্ডিনেন্সের (সংশোধনী) মাধ্যমে করপোরেশনের মূলধন ৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মূলধন দিয়েই করপোরেশন পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলের জন্য যে ধরনের নৌযান বা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা এই আইনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যেমন, অভ্যন্তরীণ নৌপথে কন্টেইনারবাহী জাহাজ প্রয়োজন, যা আগের আইনে ছিল না। এটা প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে করপোরেশনের বহরে কনটেইনারবাহী জাহাজ যেন যুক্ত করা যায়, সে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আইন, ২০১৯ হবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে প্রয়োজনে সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে দেশের যেকোনো স্থানে এর শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

প্রস্তাবিত আইনে সরকারি বিনিয়োগে পাঁচশত কোটি টাকা মূলধনের কথা বলা হলেও আইন অনুসারে সরকারের সম্মতি নিয়ে এর মূলধন বৃদ্ধি করা যাবে। তাছাড়া প্রয়োজনে এর যেকোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশি-বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য যেকোনো উৎস থেকে ঋণ বা অনুদান নিয়েও আলাদাভাবে মূলধন বাড়াতে পারবে।

সরকার নিয়োজিত একজন চেয়ারম্যানের অধীনে করপোরেশনের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। তিনি সরকারের নির্ধারিত মেয়াদে ও শর্তে নিযুক্ত হবেন। তিনিই হবেন করপোরেশনের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী। তবে নৈতিক স্খলনের কারণে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে বা ইতোপূর্বে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষিত হলে বা সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগযোগ্য হবেন না। তাছাড়া সরকার চাইলে আদেশ জারির মাধ্যমে চেয়ারম্যান বা যেকোনো পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অব্যহতি দিতে পারবে।

পরিচালক নিয়োগ প্রসঙ্গে আইনে বলা হয়েছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে খণ্ডকালীন পরিচালক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি আরো চারজন পরিচালক নিয়োগ দেবে সরকার। আইনে খণ্ডকালীন পরিচালক ছাড়া অন্যান্য পরিচালকরা করপোরেশনের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাবেন।

এর সঙ্গে সরকারের নিয়োগ দেয়া আরো ৪ জন পরিচালক থাকবেন। তবে এর সঙ্গে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান করপোরেশনের ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্য সম্পাদন এবং দায়িত্ব পালন করবেন। করপোরেশনের পরিচালনা ও এর প্রশাসন পর্ষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

চেয়ারম্যানের নির্ধারিত সময় অনুসারে পরিচালনা পর্ষদের সভা হবে এবং অন্তত তিনজন পরিচালকের উপস্থিতিতে সভায় কোরাম গঠনের কথা বলা হয়েছে এতে।

করপোরেশনের কার্যাবলী বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে দক্ষ ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ, নৌপরিবহন সেবা প্রদান, সরকার নির্ধারিত রুটে ফেরি পরিচালনা, বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোসহ নৌযোগাযোগ ও নৌপরিবহন সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও আনুষঙ্গিক সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এছাড়াও করপোরেশন, নৌযান সংগ্রহ, ভাড়া করা ও দেয়া, হস্তান্তর করা, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ রুটে তৈলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। তাছাড়া নৌ নির্মাণশালা ও মেরামত কারখানা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, নৌযান ও অনুরূপ অন্যান্য যান মেরামত, নির্মাণ, পূণ:সচল এবং সংরক্ষণ করতে পারবে।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত