প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলাপুরের বিশাল রেলওয়ে হাসপাতাল ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত

মৌরী সিদ্দিকা : রাজধানীর কমলাপুরে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল। বিশাল এই চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য আছে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব জনবল। শুধু তাই নয়, আছে ওষুধ কেনার বড় বরাদ্দ। শুধু ভেতরে নেই রোগী। কাজ ছাড়াই বেতন পাচ্ছেন সবাই। একাত্তর

প্রধান ফটক থেকে ভেতরে প্রবেশ করলে যে কারো কাছে এটি ভূতুড়ে বাড়ি মনে হবে। আশ্চর্য হলেও সত্যি এটি একটি হাসপাতাল যার অবস্থান রাজধানীর কমলাপুরে। মূল ভবন থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে কাউকেই চোখে পড়লো না, শুনসান নিরবতা। রোগী দূরের কথা, দেখা মেলে না হাসপাতালের কোনো স্টাফেরও। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখা মিলল কয়েকজনের। তারা তখন মশার অ্যারোসল ছিটাচ্ছিলো। একাত্তরের ক্যামেরা দেখামাত্রই তারা দৌড়ে পালালে।

হাসপাতালের প্রতিটি রুমই তালাবদ্ধ। তালায় পড়া মরিচা দেখে আন্দাজ করা যায় রুমগুলো বহুদিনেও খোলা হয়নি।
একজন কর্মী বলল, আমি ২০০৫ সালে এখানে জয়েন করেছি। তখন থেকেই দেখেছি নিচের সাইডটা বন্ধ।

৫ একর জমির উপর ৭৫ শয্যা বিশিষ্ট রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালটি তৈরি ১৯৮৬ সালে। তারও দীর্ঘদিন পর ২০১৫ সালে শুরু করা হয় জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু সচল করা যায়নি এটির কার্যক্রম। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার বলছেন, হাসপাতালটি সচল করার সব চেষ্টা তারা করছেন।

রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের ডিএমও ডাক্তার আই এস আব্দুল আহাদ বলেন, এটা যখন প্রথম করা হয়েছিলো ১৯৮৬ সালে তখনকার সময় এটি ছিলো একটি উন্নত আধুনিক হাসপাতাল। কালক্রমে দিনে দিনে সবকিছুর উন্নয়ন হলেও রেল হাসপাতালের আর উন্নয়ন হয়নি।
অথচ ডাক্তার, নার্স মিলিয়ে হাসপাতালটির কর্মীর সংখ্যা নেহাতই কম নয়। মোট ১৩৩ জনের জনবল। এদের আটজন আছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেষণে আসা বিশেষায়িত ডাক্তার। মাস শেষে তারা সবাই বেতন পাচ্ছেন অথচ তাদের কোন অফিস করতে হচ্ছে না কোনভাবে হাজিরা দিয়েই কাজ শেষ।

রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাক্তার ফিরোজ আলমগীর বলেন, তত্ত¡বধায়ক হিসেবে আছি। কোন পদে নেই। এখানে পদ দিতে পারেনি কারণ কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোড নেই। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ