প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা স্থানান্তর সমর্থন করো, নইলে দেশ ছাড়ো, জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মঈন মোশাররফ : রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তরের বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, তাতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সমর্থন দিক, নইতো (সংস্থাগুলো) দেশ ছেড়ে চলে যাক, এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন । ডয়চে ভেলে

বুধবার ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে পাঠানোর এখনই সময়। তবে ঐ দ্বীপে সব রোহিঙ্গাকে পাঠানো সম্ভব নয়। আমরা মাত্র এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠাতে পারি। তবে আমরা তাদের জোর করে পাঠাতে চাই না। আমরা আশা করেছিলাম, তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যাবে।

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘকে এই পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, নয়তো তারা রোহিঙ্গাদের তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। এই মানুষদের অনেকেই ইতিমধ্যে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। ঐ এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয়দের প্রায় দ্বিগুন। স্থানীয়রা নিয়মিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ করছে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। সে কারণে আমরা তাদের ভাসান চরে যেতে বাধ্য করতে পারি।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র নয়। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। এরপরও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কিছু করেছি। এখন অন্যদের এগিয়ে আসতে হবে, কারণ এটা শুধু। আমাদের সমস্যা নয়। এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। আমরা যদি তাদের নিরাপত্তা না দিতাম, তাহলে তারা গণহত্যার শিকার হতে পারতো।
মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ আমাদের বেশি সাহায্য করছে না। তারা মিয়ানমারের রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না। জাতিসংঘের কাছ থেকে আমরা যা প্রত্যাশা করি, তা জাতিসংঘ করছে না।

এসময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, দ্বীপে শরণার্থীরা অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। কিন্তু কক্সবাজারে কাজ করা ত্রাণ সংস্থাগুলো ভাসান চরে যেতে চায় না। কক্সবাজারে তারা পাঁচ তারকা হোটেলে থাকতে পারেন, তাই তারা অন্য জায়গায় যেতে চান না।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার মধ্যে যারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে রাজনীতিকরণ করতে চাইছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। অনেক লিফলেট, সিডি ও ভিডিও জব্দ করেছি, যেগুলোতে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি না মানলে মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যদি আপনাদের পরিকল্পনা সমর্থন না করে তাহলে কি আপনারা তাদের তাড়িয়ে দেবেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, আমরা তাই করবো।
ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ভাসান চর মানুষের বসবাসের জন্য কতোটা উপযোগী এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নিরাপদ আমরা সেখানে সুন্দর বাড়ি ও বাঁধ নির্মাণ করেছি। আমরা যদি বাংলাদেশিদের সেখানে যেতে বলি তাহলে তারাও নিশ্চয় যাবে। সম্পাদনা : রাজু আহসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত