প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বছরে দেড়শ’ কোটি টাকার সবজি ফলাচ্ছেন ডুমুরিয়ার চিংড়ি চাষিরা

মাজহারুল ইসলাম : ঘেরের বাঁধের ওপর মাচা,  ঝুলছে কুমড়া-লাউ, শিম, করলা ও বরবটি। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চিংড়ি ঘেরের ৪ থেকে ৫ ফুট চওড়া বাঁধে মৌসুমি সবজি চাষ করে চিংড়ি চাষিরা বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। নামমাত্র খরচ, সহজ পদ্ধতি ও লাভজনক হওয়ায় ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়। বছরে দেড়শ’ কোটি টাকার সব্জি উৎপাদন হচ্ছে এইসব ঘের থেকে। সমকাল

ডুমুরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রি জানান, উপজেলার ১১ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে ১৮ হাজার ৭১২টি গলদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। ওইসব ঘেরে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বাঁধের ওপর সবজি চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন।

উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের একজন কৃষক জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে প্রথমবার ধান, মাছ ও সবজি বিনষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় সবজির আবাদ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবু উৎপাদন ভালো। ঘেরের চারপাশের বাঁধের ওপর খিরা, করলা, শিম, বরবটি, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ওল, চইঝাল, বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষ হচ্ছে। ঘেরের ভেতর পানির ওপর মাচা তৈরি করে সেখানে করা হচ্ছে কুমড়া ও লাউ চাষ। এসব সবজি বিক্রি করতে পরিবহন খরচ লাগে না। কারণ, পাইকাররা কৃষকের কাছে এসে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে যান।

উপজেলার সাহস ইউনিয়নের একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, গলদা চিংড়ি ঘেরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন মাছের মিশ্র চাষ করা যায়। আর ঘেরের বাঁধে করা যায় নানা ধরনের সবজি চাষ।

ডুমুরিয়ার আরেকজন সবজি চাষি জানান, প্রথমে শখের বসে এবং পরে পরিবারের প্রয়োজনে চিংড়ি ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ শুরু করি। এখন তা মোটা অঙ্কের আয়ের উৎস।

উপজেলার আরেক কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, চিংড়ি ঘেরের চারপাশের বাঁধের প্রায় ১০ হাজার ৪৫৮ বিঘা জমি পরিত্যক্ত থাকতো। এখন মাচা বানিয়ে সবজি চাষ হচ্ছে। এতে বছরে দেড়শ’ কোটি টাকার সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। লাভবান হওয়ায় ঘেরের বাঁধে সবজি চাষের প্রসার ঘটছে। তিনি জানান, কৃষকরা যাতে ভালোভাবে সবজি উৎপাদন করতে পারেন সেজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এমআই/এসবি

 

 

 

 

 

সর্বাধিক পঠিত