প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন: মামলার চার্জশীটে বাদপড়া সাবেক এমপিসহ ১১জনের বিরুদ্ধে নারাজি

রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২০১৬ সালের ৬ই নভেম্বর রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিকদের হামলায় তিন সাঁওতাল নিহত, বাড়িঘর লুটপাট, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনার দীর্ঘ ১০দিন পর পরিকল্পিতভাবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ নিজেরা মামলার বাদী না হয়ে সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর মাহালীপাড়া গ্রামের মৃত সমেশ্বর মুর্মুর পাগল ছেলে স্বপন মুরমুকে বাদী করে অজ্ঞাতনামা ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। উল্লেখ্য, স্বপন মুরমু ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের কোন প্রতিনিধি নন। সেই আলোচিত সাঁওতাল হত্যার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সমপ্রচার করা হলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে সাঁওতালদের পক্ষ থেকে হরিণমারী নতুন পল্লীর (ইক্ষুখামারের ভেতরে গড়ে তোলা পল্লীর) বাসিন্দা হেমব্রমের ছেলে থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৩৩ জনকে নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এজাহার দিলে ওই এজাহারটি পুলিশ জিডি হিসেবে এন্ট্রি করে।

পরবর্তীতে ওই জিডির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ১৪৪০২/১৬ নং রীট পিটিশন দাখিল করলে হাইকোর্ট বিভাগ থোমাস হেমব্রমের জিডিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআইকে ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। সাঁওতালদের অভিযোগ পিবিআই আসামি পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাইবান্ধা পিবিআইয়ের (এএসপি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার ওই ঘটনার সাথে জড়িত প্রভাবশালী কতিপয় আসামীদের নাম বাদ দিয়ে ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ২৩ জুলাই চার্জশীট দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে পিবিআই গত ২৮ জুলাই সাংবাদিকদের সামনে ওই চার্জশীট সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করেন।

পিবিআইয়ের দাখিলকৃত চার্জশীটের বিরুদ্ধে এজাহারকারী থোমাস হেমব্রম সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, তৎকালিন চিনিকলের এমডি আব্দুল আউয়াল, জিএম আব্দুল মজিদ, কাটাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রফিক, তৎকালিন ইউএনও আব্দুল হান্নান, তৎকালিন ওসি সুব্রত কুমার সরকার, তৎকালিন ডিবি পুলিশের এসআই মাহবুবুবর রহমান মাহবুর, পুলিশ কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, মিনহাজুল ইসলাম, আব্দুল মতিন ও বাবলু মিয়াসহ ১১জনের নামে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে বুধবার নারাজী দাখিল করেন। বাদী পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবি জেড আই খান পান্না, রফিকুল ইসলাম সিরাজী, গাইবান্ধা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু ও মুরাদুজ্জামান রব্বানী নারাজি শুনানি করেন। আদালত শুনানি শেষে আগামী ৪ নভেম্বর শুনানীর দিন ধার্য করেন।

অপরদিকে পিবিআইয়ের দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রত্যাখান করে ওইদিন দুপুর ২টার দিকে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পূনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, হাইকোর্টের আইনজীবি জেডআই খান পান্না, সিপিবি গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট মুরাদুজ্জামান রব্বানী, জেলা যুব ইউনিয়ন সভাপতি প্রতিভা সরকার ববি, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুন্নবী মিলন, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পূনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম ও মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ