প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ হাজার শিক্ষক পড়ান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

আসিফ হাসান কাজল : শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে আছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন হাজার শিক্ষক। এনজিও, ব্যবসা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের গবেষণা, শেয়ার ব্যবসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাদের অনেকেই। ফলে শিক্ষক সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৯০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার হাজার ৭৩৩ জন শিক্ষক খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৬০৬ জনই অধ্যাপক আর ৭৫৮ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৯১৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং এক হাজার ৪৫০ জন প্রভাষক।

ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটা ঠিক যে অনেক শিক্ষক আছেন যারা বাইরে বিভিন্ন ধরনের চাকরি করেন। কেউ কেউ গবেষণাও করেন। সার্বিকভাবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে একজন প্রাজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের সেবা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে অন্য প্রতিষ্ঠানের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করে, তাহলে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে।’
ইউজিসি’র তথ্যানুসারে, দেশে বর্তমানে সরকারের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটি সংক্রান্ত তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সেখানে দুই হাজার ৯৪০ শিক্ষক অন্তত পাঁচ ধরনের ছুটিতে আছেন।
এসব শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন দুই হাজার ১০১ জন, প্রেষণ নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন ৮৪ জন, বিনা বেতনে ছুটিতে আছেন ৫৮ জন, ছুটি শেষ হওয়ার পরও অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন ১৭ জন এবং খণ্ডকালীন বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন ৬৮০ জন। বাকি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ইস্যুতে ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, খাতা-কলমে তাদের ১৬ জন শিক্ষক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। কিন্তু বাস্তবে এ সংখ্যা অনেক বেশি।
অভিযোগ আছে, শিক্ষক রাজনীতি এবং বিভিন্ন নির্বাচনে জয়লাভের আশায় ক্লাস ফাঁকি দেয়া, শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কাজে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে থাকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ জন্যই ২০০৭ সালে হাবিবুর রহমানের তদন্ত কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ‘আচরণবিধি’ প্রণয়নের সুপারিশ করেন। কিন্তু সেই সুপারিশ আজ পর্যন্ত প্রণীত হয়নি।

শিক্ষাছুটি ও খণ্ডকালীন চাকরি নীতি অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চশিক্ষাকে সব সময় উৎসাহিত করা হয়। এজন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দও দিয়ে আসছে। বিদেশে গমনকারী শিক্ষকরা বৈতনিক, অবৈতনিকসহ বিভিন্নভাবে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত ছুটি নিতে পারেন।
প্রায় এক দশক আগে উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) গ্রহণকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন চাকরি করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে ডাটাবেস তৈরির কথা ছিল। কিন্তু তা আজও তৈরি হয়নি। সম্পাদনা : ইসমাঈল ইমু/অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত