প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনিয়ম আর সকল কিছুর স্বল্পতায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ঢাবি শিক্ষার্থীরা

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন : নানারকম অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পর্যাপ্ত ওষুধ ও ওষুধের কৃত্রিম সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী। ৪টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এছাড়া দিনের বেলায় ডাক্তার সংখ্যা বেশি থাকলেও রাতে দায়িত্ব পালন করেন একজন ডাক্তার।

চিকিৎসা কেন্দ্রের সূত্র থেকে জানা যায়,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরের পরিবারের জন্য মাত্র ২৫ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ডাক্তার সংখ্যাও মাত্র ৩৫ জন। চিকিৎসা কেন্দ্রে ৫ জন খন্ডকালীনসহ অ্যালোপ্যাথিক বিভাগে মোট চিকিৎসক রয়েছেন ২২ জন। আর হোমিওপ্যাথিক বিভাগে রয়েছেন ৮ জন। হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুই জন, দন্ত বিভাগে দুইজন(১ জন খন্ডকালীন) আর আলট্রসনো, হদরোগ বিভাগে একজন করে খন্ডকালীন চিকিৎসক রয়েছে। নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন প্রতি সোমবার ও বুধবার সকাল ৯ টা থেকে ১০.৩০ অর্থাৎ সপ্তাহে মাত্র তিন ঘন্টা, হদরোগ(কার্ডিওলজি) বিশেষজ্ঞ প্রতি বৃহস্পতিবার রোগী দেখেন মাত্র এক ঘন্টার জন্য। চিকিৎসা কেন্দ্রে এক্সরে করা যায় সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার কেউ এক্সরে করলে রির্পোট পাওয়া যায় দুই দিন পর রবিবার, আল্টাসনোগ্রাফি করা যায় প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে সপ্তাহে চারদিন। ফিজিওথেরাপি করা যায় প্রতিদিন নির্ধারিত এক ঘন্টা সময়ের মধ্যে।

সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়,‘তৃতীয় তলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পুরনো বিছানাগুলো পাল্টিয়ে নতুন ভাবে আনা হয়েছে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মশারী দেয়া হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৈদ্যুতিক পাখার অভাব রয়েছে। পুরনো পাখাগুলো আস্তে আস্তে ঘোরে, যার ফলে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের ভাঁপসা গরমের মধ্যেই থাকতে হয় এখানে। পিছনের বারান্দায় দেখা যায়, ময়লা-আবর্জনা ও পুরনো মালামালের স্তূপ এবং নোংরা পরিবেশ। পানির ফিল্টারও পুরনো এবং ঠিকমত ফিল্টার থেকে পানি পাওয়া যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে বলেন,‘ঢাবির চিকিৎসাকেন্দ্রেরই চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি বাইরে থেকেই এক্সরে করতে হয়, সময় মতো ডাক্তার পাওয়া না যায় তবে নামে মাত্র মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজন কি?’

৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না রোগী বহনের জন্য। মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ডাক্তারদের সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।

চিকিৎসাকেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী ৬টি এন্টিবায়োটিকসহ ২৭টি ওষুদের তালিকা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নাপা-প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। তবে তাদের অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ওষুধ না পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলমোহরযুক্ত ওষুধ বাহিরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।

চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে চিকিৎসাকেন্দ্রের ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠে। রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন,‘ঢাবির মেডিকেল সেন্টারে নাপা, প্যারাসিটামল ছাড়া কোন ওষুধ পাওয়া না।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো নিয়ে কথা হয় ঢাবির চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ সারওয়ার জাহান মুক্তাফীর সাথে। খন্ডকালীন চিকিৎসকরা প্রতিসপ্তাহে মাত্র এক বা দেড় ঘন্টা সময়ে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় বলেন,‘কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসা

কেন্দ্রে আসেন তবে তাকে সেবা না দেয়া পর্যন্ত ডাক্তার থাকেন। তখন নির্ধারিত সময় মেইনটেইন করা হয় না। তারা যেহেতু খন্ডকালীন ডিউটি করেন তাই তারা কখন সময় দিবেন এটি নির্দিষ্ট করার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

রাতে শুধুমাত্র একজন দায়িত্বরত চিকিৎসক থাকেন, অনেক সময় রাতে জরুরী রোগী আসে তাদের সেবা দেয়া একার পক্ষে কতটুকু সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার জাহান বলেন,‘আমাদের চিকিৎসকদের তালিকা আপনারা দেখেছেন। যদি রাত্রীকালীন ডাক্তারের সংখ্যা বাড়ানো হয় তবে দিনে সমস্যা হয়। তাই আমরা প্রথমে রাত্রীকালীন ডাক্তার দু’জন রেখেছিলাম পরে পরীক্ষামূলকভাবে একজন রাখায় দেখলাম একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা দেয়া সম্ভব।’

চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্যানগুলোর বাজে অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে সারওয়ার জাহান বলেন,‘আমরা প্রতিবছর বাজেট পাওয়ার পর নতুন ফ্যান লাগাই। প্রতিবছরই কিছু ফ্যান রিপ্লেস করে থাকি।’

শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা বৃদ্ধিতে-আরও ভালো সেবা প্রদান করতে কি কি সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছেন? বাজেট নাকি অন্য কোনো সমস্যা? এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন,‘আমাদের বাজেট নিয়ে আপাতত কোনো অভিযোগ নেই, তবে আমাদের আর একটি ভবন দরকার। তবে এটি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ