প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি আবারও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে, বললেন মো: লুৎফর রহমান

বিএনপির ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পথ চলার শুরু থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হয় বিএনপি সমর্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনেট সদস্য এবং পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান এর সাথে। এসময় আলাপের এক পর্যায়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ কোনপথে? জানতে চাইলে অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান বলেন,‘দলের গঠন অনুযায়ী দলের হাল কেউ না কেউ ধরবে। সব দলের মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে, তবে আর্দশের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বাংলার মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় চায়। দেশের মানুষ যখনই সুযোগ পাবে গণতান্ত্রিক ভাবে ভোটের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় নিয়ে আসবে এটা আমার বিশ্বাস। আওয়ামী লীগ ৭৫’ পরে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে, আমি বিশ্বাস করি বিএনপি আবারও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ রোববার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলটির যাত্রা শুরু হয়। তখনকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরও তিনবার ক্ষমতায় আসে দলটি। তবে ২০০৭ সালে ১/১১’র পরে বিএনপি বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে যায়। সেই থেকে আজও পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপি নিজেকে দাঁড় করাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে দুর্নীতি মামলায় জেলে রয়েছে।

বর্তমানে কোন পথে হাঁটছে বিএনপি? জানতে চাইলে মো: লুৎফর রহমান বলেন,‘বাংলাদেশে মূলত দুইটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক ভাবে প্রথম থেকেই ভূমিকা পালন করছে, এরশাদের সময়টা আমরা বাদই দিলাম। বিএনপির প্রথম শাসনামল যতটা পরিচ্ছন্ন ছিল দ্বিতীয় শাসনমালটা ততোটা ছিলনা। ২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের সাথে গণতান্ত্রিক আচরণ করেনি। গণতান্ত্রিক ভাবে রাজনীতি করার জন্য যতটুকু সুযোগ দেওয়ার দরকার ছিল আওয়ামী লীগ সরকার তা আমাদের দেয়নি। যে কারণে আমাদের রাজনীতি মুখ থুপড়ে পড়ছে, তারা আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত বাধা প্রদান করে আসছে যে কারণে বিএনপি শক্তিশালী না হয়ে বরং নেতা-কর্মীর সংখ্যা কমেছে।যে হারে অত্যাচার, গুম, খুন শুরু করেছে তাতে করে রাজনীতি করার পরিবেশ নেই। বর্তমান সরকার আমাদের রাজপথে আন্দোলনের সুযোগ দিচ্ছে না, কারণ তারা বিএনপিকে ভয় পায়। বিএনপির ভোটার সংখ্যা কম নয় কিন্তু নেতা-কর্মীর সংখ্যা কমছে। জিয়া পরিবারের সদস্যদের নামে রাজনৈতিক ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে সরানোর অপচেষ্টা চলছে, তারপরও বিএনপি ঠিকে আছে এটা অনেক বড় বিষয়। এখন বিএনপির কাছে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়েও বড় আন্দোলন নেত্রীক জেল থেকে বের করা। বাঁধা প্রদানের কারণে সভা, সেমিনারের মাধ্যমে আমাদের আন্দেলন সীমাবদ্ধ থাকছে। মাঠে থেকে আন্দোলন না করলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না।’

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা বিএনপির জন্য কতটুকু যুক্তিসংগত ছিল? এবিষয়ে ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন,‘আমার মতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি অংশগগ্রহণ না করলে জনগণের কাছ থেকে ছিটকে পরত। ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকার জন্য নির্বাচন হচ্ছে পূর্বশর্ত। বিএনপি সব দলের উপস্থিতিতে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আশা করেছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বচ্ছ নির্বাচন হলে ফলাফল ভিন্ন হতো। শপথ গ্রহণ নিয়ে দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? আমার মতে প্রথমেই শপথ গ্রহণ করাটা উচিত ছিল, তাহলে প্রথম থেকেই আমাদের যতটুকু শক্তি আছে তা দিয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হতো। এই সিন্ধান্ত গ্রহণ করেই নির্বাচন প্রত্যাখান করতে পারতো। খালেদা জিয়া, তারেক জিয়ার নির্দশেই বর্তমান সংসদ সদস্যরা সংসদে বিএনপি ও দেশের মানুষের জন্য কথা বলার জন্য গিয়েছে। দলের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সংরিক্ষত আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানার প্লটের আবেদন করাটা আপনি কিভাবে দেখছেন? জানতে চাইলে অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান বলেন,‘সংসদ সদসরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন সে হিসাবে তিনি তার অধিকার থেকে আবেদন করতেই পারেন। তবে আবেদনটির ভাষা আরোও সুন্দর হতে পারত, তিনি যেভাবে আবেদন করেছেন তা আমাদের কাছে ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। যেমন তিনি ওখানে ’চিরকৃতজ্ঞ’ কথাটি ব্যবহার করেছেন যা উচিত হয়নি, প্রয়োজনে তিনি দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে দরখাস্ত করতে পারতেন।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বোমা হামলার বিচার না করা কতটুকু দায় এড়াতে পারে দলটি? এ বিষয়ে অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান বলেন,‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল হিসাবে বিএনপি এর দায়ভার এড়াতে পারে না। বিচারের ক্ষেত্রে আরোও কঠোর ভূমিকা পালন করতে পারতো।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত