প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের ৯২ শতাংশ অ্যাপারেল রপ্তানি শুল্কের মুখে
কাঠামোগত সংস্কার এবং সুষ্ঠু বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা না গেলে লাভবান হতে পারবেনা বাংলাদেশ, বললেন অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ

আজ থেকে চীনের ১১ হাজার ২শ কোটি ডলারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্কারোপ করেছে, তার আওতায় পড়েছে দেশটির ৯২ শতাংশ গার্মেন্টস রপ্তানি। ক্রিসমাসের আগে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ এই খবর। কারণ, মার্কিন বাজারে চীনের ৯২ শতাংশ অ্যাপারেল বা আরএমজি খাতের রপ্তানি নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মতো দেশ লাভবান হবে, এমন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ।

ড. আহমেদ এই প্রতিবেদককে জানান, ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা নিয়ে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটা সঠিক ধারা নয়। কার্যত, ভিয়েতনাম মার্কিন এবং ইউরোপের বাজারে রপ্তানির মোট আকারে বাংলাদেশের চাইতে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের আরএমজি এবং গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা পশ্চিমা ভোক্তাদের রয়েছে, ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা নেই। দেশটির সঙ্গে ইতিমধ্যেই ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক বহুজাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার আওতায় খুবই কম শুল্কে রপ্তানির সুবিধা নিতে পারবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি। এটা দেশটির কূটনৈতিক সাফল্যও বটে। বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরে নিজ অর্থনীতির জন্য এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

এইক্ষেত্রে কূটনীতির ব্যর্থতার পাশাপাশি আর্থিকখাতের স¤পূর্ণ অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মও দায়ী। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আশাব্যঞ্জক হারে বৃদ্ধি না পাওয়ার অন্যতম কারণ এটা। আরএমজি রপ্তানি বাড়াতে হলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা এবং পুঁজির সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অথচ ব্যাংকিংখাতকে যে অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু ঋণ খেলাপির হাতে জিম্মি করে দেয়া হয়েছে, তা নিয়েও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। এই প্রবণতা একটি নির্দিষ্ট সময় পর দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে সংকোচনের মতো প্রবণতা সৃষ্টি করবে, এমন আশংকাও প্রকাশ করেন এই শীর্ষ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ভিয়েতনামে দুর্নীতি এবং অনিয়মের এই ধারাবাহিকতা নেই। ফলে সেখানে ঋণ প্রবাহ এবং বিদেশি পুঁজি নিবেশের সুযোগ অনেক বেশি। হচ্ছেও তাই। বাংলাদেশ মূলত আরএমজি রপ্তানির ক্ষেত্রে লাওস এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। অর্থাৎ, বাণিজ্যযুদ্ধের লড়াইয়ে বিনিয়োগ পরিবেশের অনিশ্চয়তার কারণেই খুব একটা লাভবান হবে না বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কিছু অর্জন আসলেও দীর্ঘমেয়াদে সেটা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

সরকারকে দেশে রপ্তানি শিল্পের বিকাশে কর রেয়াত এবং ভর্তুকি দেয়ার প্রবণতার বাহিরে এসে আর্থিকখাতে কার্যকর সংস্কার পরিচালনা করার আহ্বান জানান তিনি। না হলে দেশের শিল্পখাতের সক্ষমতা যেমন বাড়বেনা তেমনি বিশ্ব পরিস্থিতির পট-পরিবর্তন হলে, স্থানীয় শিল্পের বিক্রয় প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ