প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজের সবচাইতে অহংকারী জানোয়ারগুলোর বাস কওমি মাদ্রাসায়
কওমীর জমহুর হুজুররা লাউজি, বাস্টার্ড! আবার নবীর ওয়ারিশের দাবী করে এই বেজন্মারা!

মুনতাকিম চৌধুরী :  বিশ্বের নামকরা নিউজ এজেন্সীতে দেশের ব্যাপারে লজ্জাজনক রিপোর্ট দেখতে ভাল লাগে না। ফরাসিরা বজ্জাতের হাড্ডি, তারপরেও এএফপি বেশ প্রফেশনালিজম দেখিয়েছে; রিপোর্টটিকে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা হিসেবেই রেখেছে, ইসলামের সমস্যা বানিয়ে ফেলে নাই।
.

নাসারাদের প্রশংসা দিয়ে শুরু করলেও, যারা মুখ খুলতে শুরু করায় এই রিপোর্ট তৈরী হতে পারলো, তারা অন্যকোনো পথে যেতে পারতেন কি না, ভাবতে হয়। তারা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন, তারা মাদ্রাসা সংস্কারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব আগে রেখেছিলেন কি না, মাদ্রাসার পরিবেশ “ইসলাম সম্মত” করে তোলার ব্যাপারে তাদের উদ্যোগ ছিল কি না, জানার আগ্রহ হলো। যদি, সেসব উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, এবং প্রাক্তন ওস্তাদদের কাছ থেকে ফাসেক জাতীয় তকমা পাওয়ার পরে বাধ্য হয়ে ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স এর পথে গিয়ে থাকেন, তবে, তাদেরকেও কিছুটা সাধুবাদ জানাতে চাই।
.

আমি দুঃখিত, রিপোর্টে যাদেরকে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা অনলাইনে পরিচিত নাম, কিন্তু, আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ অনলাইনে কওমিদেরকে এড়িয়ে চলছি, আমার আগের লেখালেখির কারণে অনেকে আমাকে ঘৃণাও করেন। যাই হোক, মূল কথা, কওমিদের সাথে দূরত্ব তৈরী করায়, যারা মুখ খুলেছেন, তাদের আগের আচরণ সম্পর্কে জানা না থাকায় সাধুবাদ জানাতে গিয়ে এতোটা সতর্কতা প্রকাশ করতে হলো। এমনকি, এএফপির রিপোর্ট পড়ে তাদের সম্পর্কে জানতে হলো।
.

কিন্তু, মূল বিবেচ্য বিষয়টি আসলে কী? মাদ্রাসায় সমকামিতা বেশী না কম? যারা এভাবে ভাববেন, তাদের প্রতি আমার অভিশাপ আগে দিয়ে রাখলাম। আমি আগে যখন এসব নিয়ে লিখেছি, তখন যা বলতাম, আজ অনেক দিন পরে আবার তা বলি – মাদ্রাসায় সমকামিতার কোনো ঘটনা ঘটেছে, এটা জানার পরে যদি ওস্তাদদের, মুহতামিমের, বেফাকের, হেফাজতের ঘুম হারাম হয়ে না যায়, তবে তারা ইসলামকে অন্তরে ধারণ করে না।
.

বাস্তবে কী ঘটে? যখন কোনো ঘটনা প্রকাশিত হয়ে যায়, তখন তা কর্তৃপক্ষ চাপা দিতে চায়। কর্তৃপক্ষ এমন অজুহাতও দেখায় যে, দোষী ওস্তাদকে বিদায় করে দিলে চট করে তার স্থান পূরণ করার মতো ওস্তাদ পাওয়া যাবে না, কাজেই আরেকজন জোগাড় করে একে বিদায় করা হবে! হ্যাঁ, দুঃখজনক হলেও সত্যি, এসবের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো সসম্মানে বিদায় করে দেয়া মাত্র! এইরকম পদক্ষেপের মানে বুঝতে পারেন? এরকম ঘটনা এতো বেশী ঘটে যে, তাদের কাছে এসব সহনীয় মাত্রায় নেমে এসেছে!
.

মহিলা মাদ্রাসায় ওস্তাদ শিক্ষার্থীকে প্রেগন্যান্ট করে ফেলেছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলে যে এবরশন করানোর খরচ না হয় আমরা দিয়ে দিবো, কিন্তু হৈচৈ করে জানা জানি করিয়ে ফেলেন না যেনো প্লীজ! সেখানে আরেকটি অদ্ভুত আবেদন করেছিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ – “জানেনইতো এ এলাকায় বেদাতিদের কীরকম বাড়াবাড়ি, এই ঘটনা তারা জানলে দেওবন্দিদেরকে একদম চাপে ফেলে দিবে, কাজেই আপনাদের সহযোগিতা চাই! দয়া করে গোপন রাখুন!”
.

বাস্তবতা হলো, মাদ্রাসা বলুন, ক্যাডেট কলেজ বলুন, ঈশ্বরের নামে হোমস বলুন, কনভেন্ট বলুন – যেখানে কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে অল্প কয়েকজনের তত্ত্বাবধায়নে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশু-কিশোর-কিশোরীর আবাসন, সেখানেই যৌন নিগ্রহ অবশ্যম্ভাবী!
.

ধর্মশিক্ষার স্থানে এইরকম ব্যাপার ঠেকাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এই সম্ভাবনাকে যতোটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখতে মরিয়া হওয়ার কথা। তা না করে, যদি এটাকে যুগের পর যুগ চাপা দিয়ে রাখা হলো, তবে ঐ জানোয়ারেরা ধর্ম কী শিখলো? আর কীইবা শিক্ষা দিবে?
.

আজ পর্যন্ত মাদ্রাসায় যতো যৌন নিগ্রহ ঘটেছে, যতো ওস্তাদ-মুহতামিম প্রত্যক্ষ্য-পরোক্ষ প্রশ্রয় দিয়েছে, সবাইকে অভিশাপ দিচ্ছি। সব গুলা লাউজি বাস্টার্ড! আবার নবীর ওয়ারিশের দাবী করে এই বেজন্মারা!
.

আলেমদেরকে সম্মান করতে হবে, জমহুর এর কথা মানে যেনো আল্লাহ্‌র বাণী – এইসব মতলবি কথাবার্তা এই সমাজে খুন শুনতে পাবেন। কেনো জানেন? ভন্ড জানোয়ারগুলো এইসব বলে বলে ইমোশোনালি ব্ল্যাকমেইল করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়।
.

প্রকৃত আল্লাহ্‌ওয়ালারা নিজের সম্মান চেয়ে নেন না; কিন্তু মানুষ তাদেরকে ঠিকই চিনতে পারে, সম্মান করে, ভালবাসে। আমি দেখেছি, যতো বড় মানুষ, ততো বেশী ওয়াসতাগফারের উপরে থাকেন। নিজেকে নিয়ে চিন্তিত থাকেন। আর ভন্ডগুলা? অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না! অতি অল্প কয়েকজন ভাল মানুষ কওমি মাদ্রাসায় থাকেন বটে; কিন্তু সমাজের সবচাইতে অহংকারী জানোয়ারগুলোর দেখা মেলে এদেশের কওমি মাদ্রাসায়।
.

মাদ্রাসাগুলো নিজেরা সংস্কারে সচেষ্ট হলে সবচাইতে ভালো হতো; কিন্তু তার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে; যে পাপ জমা হয়েছে, তা শোধ দিতে হবে। সম্ভবত বেইজ্জত হয়ে তারপর সংস্কারে বাধ্য হবে। আল্লাহ্‌তো সুবিবেচক, এতোবড় পাপীদেরকে বেইজ্জত না করে ছাড়বেন কেনো!
.

এবং, যারা জানেন, তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ঐ হাদিসটি নিশ্চয় জানেন, বিচারের দিনে সবার আগে, সবার সামনে বেইজ্জত করার জন্যে, সবাইকে দেখিয়ে পা দুটো ধরে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে নিয়ে দোজখে ফেলা হবে এক ধরণের কিছু লোককে; দুনিয়ায় তারা নিজেদেরকে আলেম বলে দাবী করতো, লোকে তাদেরকে আলেম হিসেবে সম্মানও করতো!!!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত