প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১০ সুপারিশ, জাতীয় সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ বিএনপির

শাহানুজামান টিটু : বুধবার বিকালে রাজধানীর গুলশান হোটেল লেকশোরে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বিএনপি। এতে অংশ নেন ভারত, চীন,যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইডেন, আফগানিস্তান, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সেমিনারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিয়ানমারের ফাঁদে পা দিয়েছে সরকার। মিয়ানমার সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে সব সময় অটল থেকেছে, কিন্তু বাংলাদেশ অটল থাকতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

‘রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে’ উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও ভূমির মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের ফিরিয়ে নিতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহাবুব উল্লাহ বলেন, চীন, মিয়ানমার ও ভারত- এই তিন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করা যাবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত এখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, কিন্তু তারা তা করছে না। এছাড়া আমাদের কূটনৈতিক দূর্বলতা রয়েছে। এটাই উপযুক্ত সময়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কাজ করার।’

সেমিনারে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ১০ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে বিএনপি। সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সঙ্কট বিবেচনা করে সংলাপ আহবান করা। সরকারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক পরিস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে হবে। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, যথাযথ সুরক্ষাসহ তাদের অধিকার, সম্পত্তি, বাসস্থান ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচিত সমস্ত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের বোঝাতে বিশ্বব্যাপী জোরালো প্রচারণা শুরু করা। ন্যায্য কারণে আমাদের সকল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ, যারা বাংলাদেশের পক্ষে, তাদেরকে একত্রিত করে মিয়ানমারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাড়ি, জমি ফিরিয়ে দিতে হবে, যেন তারা সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভয় ছাড়াই বসবাস করতে পারেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে সুবিধাজনক ও নিরাপদ পরিবেশ আছে কি না তা জানতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই সেখানে সফর করতে হবে। জাতিসংঘ প্রত্যাবাসন ও প্রত্যাবাসন-পরবর্তী সময়ে মায়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের যেকোনো প্রচেষ্টা রোধে সরকারকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক মিশন ও অন্যান্য অংশীদারদের অবশ্যই জড়িত রাখতে হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মিয়ানমারসহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে, জাতিসংঘের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কার্যকর প্রত্যাবাসন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই চতুর খেলতে হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ব কূটনীতি অনুসরণে কৌশলগত হতে হবে।সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত