প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩১ আগস্টের মধ্যে বকেয়ার সুরাহা না হলে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত হবে

ওয়ালি উল্লাহ : দীর্ঘ ২৯ বছরের বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ চাওয়া হচ্ছে। বর্তমান যে প্রক্রিয়ায় ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে ব্যবসা হচ্ছে তাকে আড়ত মালিকরা বলছেন ‘জিম্মি দশা’। এতে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যদাম নিশ্চিত হচ্ছে না। ঠকছেন কোরবানির চামড়ার প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাভোগীরা। এমনকি কোরবানিদাতারাও তাদের দানের চামড়াটি নিয়ে এবার অস্বস্তিতে ছিলেন। এই বাস্তবতায় দেশে কাঁচা চামড়ার একটি প্রতিযোগী মার্কেট গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের বিষয়টির সুরাহা না হলে কাঁচা চামড়া রফতানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জনকণ্ঠ

বাংলাদেশ থেকে ফিনিশড চামড়া ও চামড়াজাতপণ্য রফতানি হয়ে থাকে। নব্বইর দশকে ওয়েট ব্লু চামড়ার বড় বাজার ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত দুই দশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মার্কেটে চামড়াজাতপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এমনকি বিদেশেও চামড়াজাতপণ্য জুতা, ব্যাগ ও বেল্ট রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে ফিনিশড চামড়া তৈরি হয় ট্যানারিতে। ট্যানারির বাইরে কাঁচা চামড়া বিক্রির সুযোগ না থাকায় গত আট বছর ধরে দেশে ধারাবাহিক দাম কমানো হয়েছে। গত আট বছরে প্রতিবর্গফুটে প্রায় ৪০-৪৫ টাকা দাম কমিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। একচেটিয়া ব্যবসার আড়ালে তারা এই সুযোগ নিয়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু এবার কোরবানির চামড়ার দাম কমানোর দাবি থেকে সরে আসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে প্রতিবর্গফুট কাঁচা চামড়া ১২৭-১৩৫ টাকায়, চীনে গড়ে ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে কোরবানির সবচেয়ে ভালমানের ঢাকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪৫-৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে আরও কম দামে বিক্রি হয়েছে এই চামড়া।

বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, চামড়াজাত পণ্যের দাম বাড়লেও কাঁচা চামড়ার দাম কমানোর দাবি করা হয়। প্রতিবছর কাঁচা চামড়ার দাম দেশে কমছে, এটা হয় কিভাবে? তিনি বলেন, পণ্যের দাম যদি বাড়ে তাহলে কাঁচামালের দামও বাড়ে। এটাই বাজারের নিয়ম। কিন্তু কোন নিয়মে দেশে চামড়াজাতপণ্যের দাম বাড়ছে, বিপরীতে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম? এজন্যই কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিতে চায়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে শীঘ্রই রফতানির বিষয়টি চালু করা হবে।

দীর্ঘ ২৯ বছরে ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তমালিক ও পাইকারদের প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার বকেয়া পড়ে আছে। তবে এফবিসিসিআইর উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই বকেয়া প্রদানের পথ খুঁজছে ট্যানারি মালিকরা। বকেয়া পরিশোধে তিন ধাপের একটি তালিকা রবিবারের মধ্যে জমা দেবার কথা চামড়া ব্যবসায়ীরা। সেই তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার বৈঠক হবে। ৩১ আগস্ট আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হবে বলে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বকেয়াটা একদিনে হয়নি। ’৯০ সাল থেকে এ বকেয়া জমা রয়েছে। তিন ধাপে বকেয়া পরিশোধের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে ’৯০ থেকে ’১০ সাল পর্যন্ত এক ধাপ। বাকি দুটি ধাপ ’১০ থেকে ’১৫ সাল ও ’১৫ থেকে ’১৯ সাল। এর মধ্যে ’১৫ থেকে ’১৯ সাল পর্যন্ত পুরো টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন আড়তমালিকরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইড এ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাজী টিপু সুলতান বলেন, বকেয়া আদায় না হলে চামড়া শিল্পের সঙ্কট আরও বাড়বে। চারশ’ কোটি টাকা বকেয়ার কারণে আড়তমালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে পারছেন না। এরপরও এবার শেষ সম্বলটুকু দিয়ে ঢাকার বেশিরভাগ চামড়া তারা সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে সারাদেশের চামড়া আসবে ঢাকায়। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের চামড়া কেনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে জেলা পর্যায়ের চামড়া কেনা হচ্ছে।

কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণার বাস্তবায়ন চেয়ে তিনি বলেন, এটা হলে দেশের চামড়াশিল্প বাঁচবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে এ শিল্পখাত জিম্মি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।

ডব্লিউএস/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত