প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্মের মূল বিষয় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, বললেন জিএম কাদের

ইউসুফ বাচ্চু : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, সামাজি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন করার দাবি জাপা সমর্থন করে। ধর্মের মূল বিষয় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সংখ্যালঘুদের প্রাপ্যতা দেখাশুনার জন্য সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন থাকতে পারে। যাতে তারা তাদেরর প্রাপ্য পেতে পারে, আমরা এটাকে সমর্থন করি।
শনিবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ আয়োজিত “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, স্বাধীনতার এতো বছর পরে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের প্রশ্ন উঠছে এটা বড়ই লজ্জার। যদিও আমি সংখ্যালঘু শব্দটা থাকার পক্ষে নই। আমরা সবাই বাংলাদেশি এটা আমাদের সবার পরিচয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা অনেকটা নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের এই সম্প্রীতির ইতিহাস হাজার বছর ধরে চলে আসছে। ৯৫ শতাংশ মানুষ সম্প্রীতির পক্ষে। আর ৫ শতাংশ মানুষ হয়তো এর বিরুদ্ধে থাকতে পারে। এরা সমাজের মঙ্গল চায় না।

নরেন্দ্র মোদি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে সঠিক কথাই বলেছেন। আমাদের দেশে একই চত্ত্বরে পাশাপাশি মসজিদ মন্দির রয়েছে। একই সময়ে নামাজ ও পূজা চলে। এমন উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন কাদের।

জিএম কাদের বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ধার্মিক তবে গোড়া না। আমি মনে করি যে যতো ধার্মিক তাকে ততো অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। ধর্মগুলো সৃষ্টিই হয়েছে সমাজে শান্তির জন্য। সব ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের জনপ্রিয় দলগুলো কোনটাই কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। তবে এদের ভেতরে ঢুকে কিছু লোক এটা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা -৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। ভারত তার সংবিধান কাটবে না, জোড়া লাগাবে এটা তাদের বিষয়। এটা নিয়ে আমাদের মাথা না ঘামানোই ভালো। আমাদের মাথা ঘামাতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে।

শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিলের জন্য সোচ্চার থাকার জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধ করেন কাজী ফিরোজ রশীদ।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি তাপস কুমার পাল বলেন, জন্মাষ্টমীর দিনে কেনো নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হলো, কারা এরা, এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এরা বাংলাদেশের ভালো চায় না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।

শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র বলেন, প্রিয়া সাহা আমেরিকায় গিয়ে যে কথা বলেছেন। সেই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তব্য নয়। আমরা এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত নই। সরকার যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন এরজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সোমনাথ দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, ডিএসসিসির ৫৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব সুজন দে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত